পশু কী?

 

পশু বলতে যে সামগ্রিক জীবমন্ডলী বুঝায় তার মাঝে মহামান্য মানুষেরা আছেন। মানুষেরা নিজেদের বাইরে রেখে আর সবাইরে পশু বললে হবে না। নিজেরে আলাদা নাম “মানুষ” দিয়া আলাদা করলে অন্য সবাইরে তাদের নিজস্ব নাম “গরু” “ঘোড়া” “চামচিকা” ইত্যাদি নামে ডাকতে হবে। কারণ একেকটা প্রাণীর বৈশিষ্ট্য আলাদা। একটা কুত্তার বৈশিষ্ট্য আর একটা ইন্দুরের বৈশিষ্ট্য এক নয়, বড় পার্থক্য বিদ্যমান। তুলনা যদি করতে হয় সামগ্রিক পশু স্বত্তার সাথে তুলনা চলবে না। সামগ্রিক পশু স্বত্তায় মানুষের কন্ট্রিবিউশন অন্য প্রানীদের মতই। তুলনা করতে হবে আলাদা আলাদা প্রানীদের সাথে। অন্যথায় তা হবে ভুল, আত্মগর্বে অন্ধ তুলনা।

অক্টোবর ১১, ২০১৬

Posted in মানবজাতি | Leave a comment

দ্রুত হাত ধুইতে পারা ইস্মার্ট বাচ্চাদের মা-বাপের জন্য

ইউএসএ টুডেতে এন্টিব্যাকটেরিয়াল সোপ-হ্যান্ডওয়াশ ইত্যাদি আমেরিকায় ব্যান হইতেছে এমন নিউজ দেখার পর খালি এন্টিব্যাকটেরিয়াল হ্যান্ডওয়াশের এড দেখি।

আমেরিকার এফডিএ ঐ ধরনের সোপের ১৯ টি উপাদানের উপরে নিষেধাজ্ঞা দিয়াছে। তারা কোম্পানিগুলোকে এক বছর আগে ডেকে বলেছিল, তোমাদের সাবান সাধারন সাবানের চাইতে উপকারী তা প্রুভ করো। এই সব খারাপ উপাদান ব্যবহার করা কীভাবে নিরাপদ হয়, তা দেখাও। এক বছর টাইম দেয়া হইল তোমাদিগকে।

কোম্পানিগুলো তা দেখাইতে পারে নাই।

সুতরাং, এফডিএ সম্প্রতি ঘোষনা দিয়াছেন, এইসব সাবান সাধারন সাবানের চাইতে আলাদা কোন বেনিফিট দেয় না। সাধারন পানি আর সাবান দিয়া হাত ধোয়াই জীবানু হইতে বাঁচার উৎকৃষ্ট উপায়। উপরন্তু, ট্রাইক্লোজেন, ট্রাইক্লোরোকার্বন সহ আরো আঠারোটি উপাদান এদের মধ্যে থাকে যা উল্টা মেডিকেশনের বিরুদ্ধে ব্যাকটেরিয়াদের প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায়, বিভিন্ন হরমোন জনিত সমস্যা তৈয়ার করে।

বাংলাদেশে প্রচলিত এন্টিব্যাকটেরিয়াল হ্যান্ডওয়াশ-সাবানে ঐসব দুষ্ট উপাদান আছে কী না, বাচ্চাদের তাড়াতাড়ি হাত ধোয়াইয়া ইস্মার্ট বানাইতে চাওয়া বাচ্চার মা বাপেরা চেক কইরা

 

১৪ অক্টোবর, ২০১৬

Posted in বুর্জোয়া মিডল ক্লাস | Leave a comment

বিজ্ঞাপনে পাত্রী দেখা

 

বিজ্ঞাপনে আমরা পাত্রী দেখা দেখি মাঝে মাঝে। সম্প্রতি রবির এমন একখানা এড ধরাধামে আসিয়াছেন। সেই এডে পাত্র এবং তার মা বাপ আত্মীয়েরা গেছেন পাত্রীর বাসায়। চা বিস্কুট খাইতেছেন, ঘটক পাখি ভাই বলতেছেন মেয়ের শান্ত শিষ্ট ভদ্র নম্র আচরনের কথা। এমন সময় ঢোল পিটাইয়া রঙ্গমঞ্চে পাত্রীর প্রবেশ। উন্মাদের মত সে “বাংলাদেশ বাংলাদেশ” বলে চিল্লায় খালি। চিল্লানির রেশ কাটতে সময় লাগে। পাত্রের হাতের বিস্কুট ভাইঙ্গা চায়ের কাপে তলাইয়া যায়।

রবি বলে এমন ক্রিকেট উন্মাদনা তারা ছড়াইতেছে। এবং তাদের একটা অফার ঘোষনা করে সম্ভবত।

যাইহোক, সত্যি এইরকম দৃশ্য কল্পনা করেন। পাত্র আর পাত্রের মা বাপের যে মুখভঙ্গী দেখলাম, তাতে মনে হয় না এই বিয়া আর হবে। তারা অবাক হওয়ার ঝাঁকি সামলানির পরেই পাত্রীর বাসা থেকে বিদায় নিবেন।

পাত্রী দেখা আমাদের সমাজের এক প্রথা, এইভাবে গিয়া সুপুত্র এবং কুপুত্রের মা বাপেরা তাদের সন্তানের জন্য রাজকন্যা সন্ধান করেন। এই প্রথার যে স্বাভাবিক নিয়ম, আগে কথাবার্তা শেষ হবে, ছবি টবি ইত্যাদি বা পূর্বপরিচিত থাকলে; শেষে পাত্রের বাসার লোকেরা যাইবেন মেয়ের বাড়িতে। এবং এরপরে বিয়ার কথাবার্তা আগাবে। ভালোই।

কিন্তু এই রকম হয় না। আমি এক লোককে সম্প্রতি দেখেছি, মনে হয় পনের বিশ জায়গায় কন্যা দেখতে গেছে। তার চয়েজ হয় নাই। ফ্যামিলির হইলে তার হয় না। একবার ভেবে দেখেন, একটা মেয়েরে পুত্রের লোকেরা দেখতে আইল এবং সুন্দর না এই কারণে চলে গেলো; সেই মেয়েটার মনের অবস্থা ভাবেন! এটা অপমানজনক। আমি মনে করি এটা আমাদের সমাজের এক বড় সমস্যা। আমাদের তীব্র পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব যেইটা আছে সমাজে, তার জন্যই এমন অবস্থা তৈরী হয়।

পাত্রী দেখার যে সংস্কৃতি বা প্রথা, যাই বলেন, এর ঘৃণ্য মিসইউজ এরে জঘন্য কইরা তুলছে। এটারে ফান, মজা হিশাবে উপস্থাপন যে বিজ্ঞাপনে হয়, তা ভালো নয়। এই প্রথা থেকে আমাদের উঠে আসতে হবে। এমন ব্যবস্থায় যাইতে হবে যেন এইরকম মিসিউজের সুযোগ আর না থাকে।

বিজ্ঞাপনে পাত্র দেখার বিষয় মনে হয় থাকে না। আমার চোখে পড়ে নাই সম্ভবত। একটা এড দেখছিলাম, এক লোকের মাইয়া ইয়ো ইয়ো কিড এক পোলারে বিয়া কইরা আনে আর বাপরে বলে ও সুন্দর না? বাপ অবাক হইতে হইতে অজ্ঞান হইয়া যান। এইটাও সম্ভবত কোন ফোনের এড। কিন্তু এখানে দেখেন কুপাত্ররে কীভাবে উপস্থাপন করা হইছে। কুপাত্রের সাথে উনার মেয়ের বিয়া কিন্তু হইয়াই গেছে। বিয়া হইবার আগে ভাঙ্গাভাঙ্গির আর চান্স রইল না। কুপাত্র হাসিমুখে খাড়ায় আর মাইয়ার বাপ হিশাবে বুড়া ভদ্রলোকের অজ্ঞান হইতে হয়। মাইয়া আর মাইয়ার বাপ যখন আপনে, ভোক্তভোগী আপনারেই হইতে হবে; এমন হিশাবের উপস্থাপন। হয়ত এইটা সমাজ বাস্তবতা, কিন্তু এগুলা চেঞ্জ করতে হবে। এদের নিয়া ফাইজলামি, মজাদার কইরা উপস্থাপন, এদের আরো সংহত করে বলেই মনে হয়।

২২ অক্টোবর, ২০১৬

Posted in বুর্জোয়া মিডল ক্লাস | Leave a comment

প্রকৃতিপ্রেম বিষয়ক

আমরা দেখি যে “প্রকৃতিপ্রেমিক” “সৌন্দর্যপিপাসু” “ভ্রমনপিপাসু” ইত্যাদি মানুষেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত জায়গাতে বেড়াতে যান। এইসব পিপাসার্তরা আসলে প্রকৃত প্রকৃতিপ্রেমিক নন। তাদের প্রকৃতিপ্রেম হচ্ছে বিনোদনের জন্য শহরের ব্যস্ততা, কোলাহল থেকে দূরে গিয়া প্রকৃতির সাথে একটু প্রেম ট্রেম করে আসা। এইসব প্রেম হচ্ছে দূরে দূরে থাকা প্রেম। মানব মানবীর ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রেমকে সমাজে বলা হয়ে থাকে লাম্পট্য। এইরকম অনেক পিপাসার্তরা দিনে বা রাইতে অবিদ্যাদের আবাসস্থলে যান, তাদের কেউ অবিদ্যাপ্রেমিক বলে না। লম্পট বা চরিত্রহীন ইত্যাদি বলে থাকে।

কিন্তু প্রকৃতিপ্রেমের ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রেমিকেরা “প্রকৃতিপ্রেমিক” তকমা পেয়ে যান। কারণ তারাই সংখ্যাগরিষ্ট। তাই নিজেদের নাম দেয়া বা না দেয়া তাদেরই নিয়ন্ত্রণে। অথবা অনেকে নিজেরেই প্রকৃতিপ্রেমিক বলে ভুল বুঝে। যেহেতু নিজে নিজেরে ভুল বুঝাটাই সবচেয়ে ইজি এবং মারাত্মকও।

এইসব পিপাসু ও তথাকথিত প্রেমিকেরা খবর পান অমুক জায়গায় প্রকৃতি সৌন্দর্যে ভরপুর। তারা সেইখানে দলে দলে যান। সেখানে বসবাসকারী পাখিরা, প্রাণীরা এবং মানুষেরা এনাদের হঠাৎ আগমনে প্রথমে অবাক হয়। অতঃপর হয় সন্ত্রস্ত।

পত্রিকা বা বিভিন্ন মিডিয়ায় উক্ত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যযুক্ত জায়গার খবর প্রকাশ হইতে থাকে। বিচিত্র ধরনের প্রেমিকদের আগমনে ঐ জায়গার অবস্থা হইতে থাকে কাহিল। ওখানকার পাখিরা ভয়ে জায়গা ছাড়ে, প্রাণীরা পালায়। জীববৈচিত্র নষ্ট নয়। সাধু এবং অসাধু নানাবিদ ব্যবসা হয়। অর্থের প্রবাহ বাড়ে যৎকিঞ্চিত। কিন্তু যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নিরবে নিভৃতে অপার মাধুর্য লইয়া বসেছিল ধরনীতলে, তার বিনাশ ঘটে। পরোক্ষভাবে তথাকথিত প্রেমিকেরা তারে খাইয়া ফেলেন।

এই প্রেমিকেরা আসলে পকারান্তে প্রকৃতিখাদক। “পিপাসু” শব্দটার মাঝেই রয়েছে এর লুকানো অর্থ। পিপাসু মানে পিপাসায় কাতর এমন, তিনি পাইলেই পান করবেন। তার পিপাসা নিবারন করবেন। এর ফলে কার ক্ষতি, কার লাভ সে হিশাব তার পরে। প্রকৃতির সৌন্দর্য এরা খান, পান করেন। এদের প্রকৃতি প্রেমিকা যারা আছেন বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, তারা হয়ত আমার লেখা পড়তে পারবেন না। যেহেতু বর্নমালা তারা জানেন না। তবুও তাদের উপদেশ দেই, আপনাদের তথাকথিত প্রেমিকদের হাত থেকে বাঁচতে ঘোমটা দিয়া থাকেন। লতাপাতা, সাপে, জোঁকে জড়াজড়ি কইরা থাকেন। অন্যথায় বুর্জোয়া প্রেমিকেরা আপনাদের খাইয়া ফেলবেন প্রেমের নাম করে।

২৩ অক্টোবর, ২০১৬

Posted in তর্ক বিতর্ক সমসাময়িক | Leave a comment

চার্লস গুডইয়ার

প্রাকৃতিক রাবার বা এইজাতীয় পলিমারকে শক্ত বস্তুতে পরিণত করার রাসায়ানিক প্রক্রিয়ার নাম ভালকানাইজেশন। এই প্রক্রিয়া যিনি উদ্ভাবন করেন তার নাম চার্লস গুডইয়ার। তার জীবন অনেক সমস্যাপূর্ন ছিল অর্থনৈতিকভাবে। প্রায়ই জেলে যেতে হয়েছে ঋণ পরিশোধ করতে না পারায়। ছোট ছেলের মৃত্যুর পরে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া আয়োজন করতে পারেন নাই অর্থাভাবে।

যখন তিনি ভালকানাইজেশন উদ্ভাবন করলেন, এর প্যাটেন্টও তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া হল। তিনি এর বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে নিজেই জেলে গেলেন, যদিও তিনিই সত্যিকার অর্থে প্যাটেন্ট এর মালিক ছিলেন।

জীবনের এই উত্থান-পতনের পরেও তিনি লিখেছেন, “টাকার মান বা পরিমাণ দিয়ে জীবনকে পরিমাপ করা উচিত না। আমি গাছ রোপন করেছি এবং অন্যে তার ফল সংগ্রহ করেছে এ নিয়ে অভিযোগ করতে আমি আগ্রহী নই। একজন মানুষ তখনই কেবল দুঃখ করতে পারে যখন সে বীজ বোনে এবং কেউ তার শস্য সংগ্রহ করতে পারে না।”

Posted in ইতিহাস | Leave a comment