বড়লোকের বাচ্চা ও ছোটলোকের বাচ্চা

মেইনস্ট্রিম বাংলা ফিল্মে দেখবেন নায়ক গরীব ও বড়লোকদের বিরুদ্ধে ফাইট দেয়। একটা ফিল্ম আমি অল্প দেখার সুযোগ পাইছিলাম। নায়ক মারুফের। তার মা গার্মেন্টসে কাজ করত। মালিকের ম্যানেজার মিশা সদাগর তার মা’রে ক্যান জানি চাবুক দিয়া মাইরা তাড়াইয়া দেয়। মারুফ পরে গুন্ডা হয়, বিজনেস ম্যাগনেট(!) হয় এবং ঐ গার্মেন্টস কিনে নেয়, অতঃপর একইভাবে গার্মেন্টসের ম্যানেজাররে চাবুক দিয়া পিটায় তার মায়ের মাধ্যমে। হুবহু হয়ত আমার বলা হয় নাই, কারণ আমি অল্প দেখছি, তবে কাহিনী এমনই।

সম্প্রতি ভ্যানগাড়ি চালক হইছেন নায়ক ডিপজল এক ফিল্মে, ট্রেইলারে দেখলাম গুন্ডা তারে গাইল দেয় ওই ছোটলোকের বাচ্চা, ডিপজল পালটা গাইল দেয় ঐ বড় লোকের বাচ্চা।

এই ফিল্মগুলির মূল দর্শক আসলে গার্মেন্টস কর্মী, রিকশা ভ্যানগাড়ি চালক এরা, এই গরীব মানুষেরা। মধ্যবিত্ত এইসব ফিল্মে নিজের জীবনের মিল খুঁজে পায় না। কিন্তু গরীব কর্মজীবিরা পায়। ধনী অত্যাচারী যারা আছেন তাদের বিরুদ্ধে এইসব গরীবদের ভিতরে ক্ষোভ আছে, অবচেতন ক্ষোভ। এই ক্ষোভে প্রলেপ দেয় এমন ফিল্ম।

Posted in চলচ্চিত্র | Leave a comment

দূর্বলরে দিয়ে কিছুই হয় না।

দূর্বলরে দিয়ে কিছুই হয় না। যে শিক্ষিকার ঘুমন্ত ছবি ভাইরাল হয়েছে তিনি শারীরিক ভাবে দূর্বল ছিলেন। পর্যাপ্ত ঘুম তার হয় নাই ঐদিন। শারীরিক অসুস্থতাও ছিল। হয়ত পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাব, যা আমাদের সিংহ ভাগ মানুষেরই আছে। তার দায়িত্ব খেলাপ নিজের দুর্বলতার জন্যই, তিনি পারেন নাই।

যে উপজেলা চেয়ারম্যান ছবি তুলেছে সে নৈতিক ভাবে দূর্বল। সে তার স্কুলে বা অন্য বিদ্যায়তনে বা পরিবারে দূর্বল শিক্ষা পাইয়া বড় হইছে। এবং হয়ত ঐ অঞ্চলে জনপ্রিয়তা হারানোর ভয়ও তার আছে। তাই নিজের কর্মপটুতা দেখাইতেই সে এই চালাকি করেছে। ঘুমন্ত শিক্ষিকার ছবি তুলে ফেইসবুকে দিয়েছে। তার এই তৎপরতা তার অন্তঃস্থ দূর্বলতারেই প্রকাশ করে।

নিষ্ঠুরতার জন্ম হয় দূর্বলতা থেকে। দূর্বলই নিজেরে শক্তিশালী দেখাইতে, নিজের দুর্বলতাজনিত হীনম্মন্যতা ঢাকতে ক্রুয়েল হইয়া উঠে।

আমাদের জাতিগত দূর্বলতা নিরসন করা দরকার। আমি খালি দূর্বলদের দেখি, ভালনারেবল। কেরিয়ার নিয়া হতাশ, রাখালহীন গরুর মত অবস্থা; যাদের একটু সুবিধা দিয়া যে কেউ কিনে নিতে পারে। মানুষ খুবই অল্প দামে বিক্রি হয় এতদঞ্চলে।

অক্টোবর ২০, ২০১৭।

Posted in দর্শন | Leave a comment

মূর্খদের আমরা ঘৃণা করতে পারি না

 

যারা মূর্খ আছেন, মূর্খ বলতে ইগনোরেন্ট; ব্রেইনের রিজনিং ক্ষমতা কাজে লাগানোটা শিখেন নাই এরা। এটা একেবারেই তাদের দোষ এমন বলা যায় না। হয়ত সুযোগ পান নাই, পরিবেশ পান নাই, হয়ত জন্মসূত্রেই ক্ষমতা কম নিয়া আসছেন তারা। তাই তারা অনেক কাজ করেন, মূর্খ কাজ যা অন্যদের ক্ষতি করে সাথে সাথে নিজেরও ক্ষতি করে। জেলাসি বশবর্তী কাজ, ইগো ও অন্যবিধ ঈর্ষা বশবর্তী কাজ; এগুলার প্রথম ভিক্টিম কিন্তু মূর্খ ব্যক্তি নিজেই। ফলে আমরা যারা জ্ঞানী হবার তালে আছি, তাদের উচিত হবে না মূর্খদের ঘৃণা করা। তাদের ঘৃণা করলে তা হবে তাদের মানসিক প্রতিবন্ধকতারে ঘৃণা করা, এটা অন্যায়। দূর্বলরে তার দূর্বলতার জন্য ঘৃণা করা অনুচিত। আমরা বরং মূর্খতারে আমরা ঘৃণা করতে পারি।

Posted in মানবজাতি | Leave a comment

ব্রাহ্মণ্যবাদের ফ্যাসিবাদী চর্চা

 

ব্রাহ্মণ্যবাদ এখন আর ব্রাহ্মণের সাথে যুক্ত নয়। বরং আরো বিস্তারিত। সব এলিটিস্ট ফ্যাসিবাদী চর্চাকে আমরা এ নামে অভিহিত করতে পারি।

বাংলার প্রমিত রূপ চাপাইয়া দেয়া যেমন ব্রাহ্মণ্যবাদের ফ্যাসিবাদী চর্চা, তেমনি অপ্রমিত ভাষারে চাপাইয়া দেয়াও ব্রাহ্মণ্যবাদের ফ্যাসিবাদী চর্চা। আঞ্চলিক ভাষাও এমন চাপাইয়া দিলে তা একই হবে।

উদার ভাষা চর্চা হলো বাংলা ভাষার সব রূপ, রস এবং অবস্থানরে সম্মানের চোখে দেখা।

এক ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে যেন আরেক ফ্যাসিবাদ না আসেন, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হপে।

Posted in ভাষা | Leave a comment

ক্যাপিটালিজম, কনজিউমারিজম ও পুরুষত্ব

 

আধুনিক ক্যাপিটালিজম ও কনজিউমারিস্ট কালচারের প্রথম ভিক্টিম হইল পুরুষত্ব। পুরুষত্বের সাথে যুক্ত যেসব জিনিস ভায়োলেন্স, সাহস, ম্যানলিনেস, স্ট্রেংথ এইগুলা প্রতিস্থাপিত হইতেছে চাতুরী, পা চাটা, পিছন থেকে আঘাত ইত্যাদি অপৌরষিক বিষয় দ্বারা।

ক্যাপিটালিস্ট সিস্টেম ট্র্যাডিশনলাম ম্যানলিনেস চায় না। ক্যাপিটালিস্ট কালচার, বিজনেস, মার্কেট এগুলির মূল অস্ত্র ধোঁকা। ছলনাময়ী বানায় তারা, এই বৈশিষ্ট্য অপৌরষের।

যারা পুরুষ হিসেবে জন্ম নেয় এরা জীবন যাপন, শিক্ষা প্রক্রিয়া ও প্রতিষ্ঠার ভিতর দিয়া যাইতে যাইতে অপুরুষ হইতে থাকে। এমতাবস্থায় তাদের মধ্যে থাকা পুরুষত্ব সাপ্রেস অবস্থায় থাকতে থাকতে, কখনো কখনো বিকৃত উপায়ে প্রকাশ পায়। এইজন্য আমরা দেখি যে কেউ একজন অস্ত্র হাতে নিয়া গুলি করে মানুষ মারে। ওয়েস্ট থেকে জীবনের দিশা হারানো ইয়াং পোলাপান ভিন্ন জীবনের খোঁজে আইএসে গিয়া ভীড়ে। এইরকম, চক পলানিউক এবং ডেভিড ফিঞ্চারের মিলিত উপস্থাপন ফাইট ক্লাবে আমরা দেখি ক্যাপিটালিস্ট সমাজে পুরুষত্ব হারাইতে হারাইতে বিপর্যস্ত এডওয়ার্ড নর্টনের অন্য ভায়োলেন্ট স্বত্তা জেগে উঠে, টাইলার ডারডেন।

Posted in সমাজ | Leave a comment