পূর্নতা নাই

লাইফে পূর্ণতা বলতে কিছু নাই। প্রায়ই দেখি জীবনের পূর্ণতার জন্য হাহাকার। এই পূর্ণতাটা যে আসলে কী…এসব হচ্ছে আমাদের আশাবাদী কল্পনা…একটা ইউটোপিয়ার স্বপ্ন। বাচ্চাকাল থেকে আমরা রুপকথার গল্পে দেখি, রাজারানী অতঃপর সুখে শান্তিতে বসবাস করিতে লাগিল। এবং এরপর পপুলার ধারার ফিল্মে। তাই আমাদের মনে হয় এটাই পূর্ণতা, যা সামনে আছে, এবং আমরা বুভুক্ষের মত এর অপেক্ষায় থাকি। কিন্তু এই চিন্তা ভুল, অযৌক্তিক কারণ সেই পূর্ণতা নাই, কখনো হয় না। প্রতি দিন আপনি বেঁচে আছেন, আনন্দ দুখ বা হতাশা, প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি, রাগ, ক্ষোভ নিয়ে আছেন, এসবই থাকবে…এসব ব্যতিরেকে কোন লাইফ নাই।

Posted in মানবজাতি | Leave a comment

নবাবের বউ

পলাশীর যুদ্ধের পর নবাব সিরাজ সাহেবের ফ্যামিলির মহিলাদের কী হইছিল তা ইন্টারেস্টিং বিষয়। নবাব ফ্যামিলি বলতে আলীবর্দী খান সাহেবের ফ্যামিলিও ইনক্লুডেড। মীরন ও জাফর আলী খান এনাদের কারাগারে রাখছিলেন। পরে প্রিয় খালাম্মা ঘষেটি বেগম ও আমিনা বেগমরে জাফরপুত্র মীরন নৌকাডুবি ঘটাইয়া খুন করেন। মীরন, মীর জাফর, বা রেজা খান নবাবের ফ্যামিলির মহিলাদের জেলেই রাখেন। তাদের মুক্তি দিন ১৭৬৫ সালে ক্লাইভ। ক্লাইভ নবাবের বউ লুৎফুন্নেছার জন্য মাসিক ৬০০ টাকা ভাতাও বরাদ্দ করেন। ১৭৮৭ সালে নবাব সিরাজ সাহেবের বেগম কর্নওয়ালিস সাহেবের কাছে তার দু:খ দূর্ভাগ্যের গীত গাইয়া ভাতা বৃদ্ধির আবেদন করেন। তিনি তার পত্রে জানান বাকী জীবন সম্মান ও মর্যাদার সাথে কাটাইতে তার এই টাকা দরকার। যেই ইংরাজ কোম্পানি তার জামাইরে নাশ করলো, তাদের কাছেই ভাতার আবেদন জানাইলেন নবাব পত্নী। সময় বড়ই অদ্ভুত হয়, এবং মানুষজাতিও। কোম্পানি বেগমের এহেন আবেদনে অবশ্য কান দেয় নাই। নবাব সিরাজ যাই থাক, ইংরাজদের লগে ফাইট দিতে গেছেন। কিন্তু তার বউ সেই স্পিরিট আর ধইরা রাখতে পারেন নাই। কোম্পানি আবেদন গ্রহন না করায় তিনি টাকা বাড়াইতে পারেন নাই, ফলে তাহার আকাঙ্খিত মর্যাদা ও সম্মানের জিন্দেগী পান নাই। এবং ইতিহাসেও সম্মান আর মর্যাদার জিন্দেগী পাইলেন না, এই আবেদনের কারণে।

Posted in ইতিহাস | Leave a comment

আব্দুর রাজ্জাক ও আহমদ শরীফ

বিচার-

“শরীফ ত্যারাবাঁকা কথা বেশ কয়। কিন্তু এক সময় তা কাম করছে। হি ডিড মেনি থিংস।”

– আহমদ শরীফ সম্পর্কে আব্দুর রাজ্জাক। যঃ আঃ গুঃ, ছফা।

“রাজ্জাক সাহেব মুসলিম লীগ মানসিকতার লোক, তিনি যাদের পছন্দ করেন তাঁদের উপকার করার জন্য তিনি আইন কানুন ভেঙ্গে কাজ করতে চান, আশ্রিত বাৎসল্য প্রদর্শনে তার কোনো সংযম নেই।”

– আব্দুর রাজ্জাক সম্পর্কে আহমদ শরীফ। আবুল কাসেম ফজলুল হক।

Posted in সাহিত্য | Leave a comment

গণফানের বিরুদ্ধে

গণফান হইল এমন এক ধরনের ভয়ানক অন্যায়, যেইখানে লোকেরা হাসতে হাসতে মানুষের বড় ক্ষতি কইরা ফেলতে পারে দলবদ্ধভাবে, এবং থাকবে অনুতাপহীন।

সেপ্টেম্ব্র ১৮, ২০১৭।

Posted in সমাজ | Leave a comment

মুক্তিযুদ্ধ নিয়া উলটা পালটা বলার স্বাধীনতা

বাংলাদেশ এক রক্তাক্ত প্রক্রিয়ার ভিতর দিয়া স্বাধীন হইছে। এখন কেউ কেউ দাবী করে থাকেন, এই স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়া উলটা পালটা কথা যাতে কেউ না বলতে পারে, আইন করে নিষিদ্ধ করা হউক। এরকম কোন আইন হইলে তা হবে অন্যায় আইন। হলোকাস্ট ডিনাই করছিলো এক লোক ডেভিড আর্ভিং, এই কারণে অস্ট্রিয়া তারে জেলে দেয়। ২০০৬ সালের এই ঘটনার প্রেক্ষিতে দার্শনিক পিটার সিংগার লিখেছিলেন এর বিরুদ্ধে।*

সিংগার হলোকাস্টের ভিক্টিম, কিন্তু তাও তিনি এই ধরনের আইনের ভয়াবহতা-অনৈতিকতা বুঝতে পেরে এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বলেন, যেসব ইউরোপিয়ান দেশে এই আইন আছে তা বাদ দিতে হবে। জন স্টুয়ার্ট মিলের অন লিবার্টি থেকে তিনি উল্লেখ করেন, On Liberty, John Stuart Mill wrote that if a view is not “fully, frequently, and fearlessly discussed,” it will become “a dead dogma, not a living truth.”

মুক্তিযুদ্ধরে ও তার ইতিহাসরে আমাদের লিভিং ট্রুথ বানানোর কথা, কোন ডেড ডগমা নয়। মুক্তিযুদ্ধ নিয়া উলটা পালটা বলার স্বাধীনতা রদ করা যেন পরাধীন পাকিস্তানি মিলিটারী শাসকদের অধীন পূর্ব পাকিস্তান বানানো দেশরে।

* Free Speech, Muhammad, and the Holocaust; Peter Singer, Project Syndicate.

 

-সেপ্টেম্বর, ২০১৭-

Posted in তর্ক বিতর্ক সমসাময়িক | Leave a comment