ক্যাপিটালিজম, কনজিউমারিজম ও পুরুষত্ব

 

আধুনিক ক্যাপিটালিজম ও কনজিউমারিস্ট কালচারের প্রথম ভিক্টিম হইল পুরুষত্ব। পুরুষত্বের সাথে যুক্ত যেসব জিনিস ভায়োলেন্স, সাহস, ম্যানলিনেস, স্ট্রেংথ এইগুলা প্রতিস্থাপিত হইতেছে চাতুরী, পা চাটা, পিছন থেকে আঘাত ইত্যাদি অপৌরষিক বিষয় দ্বারা।

ক্যাপিটালিস্ট সিস্টেম ট্র্যাডিশনলাম ম্যানলিনেস চায় না। ক্যাপিটালিস্ট কালচার, বিজনেস, মার্কেট এগুলির মূল অস্ত্র ধোঁকা। ছলনাময়ী বানায় তারা, এই বৈশিষ্ট্য অপৌরষের।

যারা পুরুষ হিসেবে জন্ম নেয় এরা জীবন যাপন, শিক্ষা প্রক্রিয়া ও প্রতিষ্ঠার ভিতর দিয়া যাইতে যাইতে অপুরুষ হইতে থাকে। এমতাবস্থায় তাদের মধ্যে থাকা পুরুষত্ব সাপ্রেস অবস্থায় থাকতে থাকতে, কখনো কখনো বিকৃত উপায়ে প্রকাশ পায়। এইজন্য আমরা দেখি যে কেউ একজন অস্ত্র হাতে নিয়া গুলি করে মানুষ মারে। ওয়েস্ট থেকে জীবনের দিশা হারানো ইয়াং পোলাপান ভিন্ন জীবনের খোঁজে আইএসে গিয়া ভীড়ে। এইরকম, চক পলানিউক এবং ডেভিড ফিঞ্চারের মিলিত উপস্থাপন ফাইট ক্লাবে আমরা দেখি ক্যাপিটালিস্ট সমাজে পুরুষত্ব হারাইতে হারাইতে বিপর্যস্ত এডওয়ার্ড নর্টনের অন্য ভায়োলেন্ট স্বত্তা জেগে উঠে, টাইলার ডারডেন।

Posted in সমাজ | Leave a comment

সহযোগীতা ও প্রতিযোগীতার ব্যবচ্ছেদ

এক-

নৌকায় ফুটা গুরু, পানি আসে। দুইজন লোক মাঝ দরিয়ায়। আমি আর সে। আমরা ধুমছে নৌকা বাই, তীরে ভিড়াইতে হবে তরী ত্বরা করি। অন্যথায় সলিল সমাধি, মাছে খাবে গলিত দেহ, আমরা নই ভাগ্যবান ইউনুছ নবী!

দুই-

মাঝ দরিয়ায় উত্তাল জল আর আমাদের নৌকা। নৌকায় ফুটা আর মাত্র একখানা লাইফ জ্যাকেট। তখন আর নৌকা বাওয়ার কিছু নাই। তখন আর আমি ও সে নাই। তখন কেবলই দুইজন আমি। বৈঠা হাতে ডুবন্ত প্রায় নৌকার উপরে আমাদের যুদ্ধ। অন্যরে পরাস্থ কইরাই নিতে হবে লাইফ জ্যাকেট, বা জীবন!

Posted in মানবজাতি | Leave a comment

পিটার সিংগার

 

পিটার সিংগার মানুষরে গিয়া বলেন, আপনি দামী শ্যুট জুতা পইরা যাইতেছেন এক পুকুরের পাশ দিয়া। দেখলেন পুকুরে এক শিশু ডুবে যাচ্ছে। আশপাশে কেউ নাই। আপনি ওরে না তুললে সে মারা যাবে। আবার তুলতে গেলে আপনার দামী কাপড় নষ্ট হবে। এখন আপনি কি ওরে বাঁচাইবেন?

মানুষেরা বলে, অবশ্যই বাঁচাব।

সিংগার বলেন, আচ্ছা, তাহলে আপনারা যে এই অতি দামী কাপড় জুতা পরতেছেন এগুলা না কিনে, এই বিলাস না করে; এর টাকাটা দিয়ে দেন কোন দাতব্য সংস্থায়। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে শিশুরা খাবারের অভাবে মরতেছে। এরা এই টাকা নিয়া তাদের খাদ্য দিয়া বাঁচাবে। আপনে যদি এদের জন্য না দেন, ও এই বিলাস করতে থাকেন, তাহলে কিন্তু পুকুরের পাশ দিয়াই গেলেন, শিশুরে দেইখাও বাঁচালেন না। অর্থাৎ, আপনার লাইফ হইল অনৈতিক।

পিটার সিংগার উপযোগবাদী একজন মোরাল দার্শনিক। তার এই চিন্তা পরীক্ষা খুবই কার্যকরী। ইউরোপ আমেরিকার মাইনষেরে তিনি দেখাইয়া দিতে চান তাদের অনৈতিক লাইফ। ভোগবাদী সমাজের অনৈতিক দিক দেখাইয়া, তিনি এক মানবিক দুনিয়া গড়ার দার্শনিক।

Posted in দর্শন | Leave a comment

সবার ঘরেই মা বইন আছে

 

এই কথাটি প্রায়ই শুনে থাকবেন। কিন্তু কথাটিতে সমস্যা আছে। ধরা যাক, একটা মেয়ে যাচ্ছে আর এক বখাটে তারে উত্যক্ত করল। তখন বিচার প্রার্থীরা বলবে বিচারটা করতে হবে কারণ সবার ঘরেই মা বইন আছে।

অথবা, কাউকে মেয়েদের উত্যক্ত করা থেকে ঠেকাইতে বলা হবে, সবার ঘরেই মা বইন আছে।

কিন্তু এইক্ষেত্রে প্রশ্ন আসে, সবার ঘরে মা বইন না থাকলে কী হইত?

ধরি কারো ঘরেই মা বইন মাইয়া নাই। এমতাবস্থায় একটা মাইয়া হেঁটে যাচ্ছে, তারে উত্যক্ত করা কি তখন ঠিক হবে?

নিজের ঘরের মা বইনদের বাঁচাইতে যেন এই অন্যায়ের প্রতিবাদ, এমন ধারনা দেয় কথাটি।

এবং কথাটি উল্লিখিত ব্যক্তির প্রতি অন্যায়রে লঘু করে, লঘু করে তার ব্যক্তি অধিকার।

হতে হবে, একজন ব্যক্তির প্রতি অন্যায় করা হইছে, তার অমতে তার সাথে ফষ্টিনষ্টি করার চেষ্টা করা হইছে, এটা আইনে অপরাধ, অতএব অন্যায়কারীর বিচার হওয়া দরকার। এতে বিচারপ্রার্থীদের ঘরে মা বোন মাইয়ার থাকা না থাকা যেন বিষয় হয়ে না উঠে।

Posted in সমাজ | Leave a comment

ক্যামু – মিথ অব সিসিফাস

মানুষ লাইফের মিনিং খুঁজে, কিন্তু লাইফের কোন মিনিং নাই। ফলে যে সমস্যার উদ্ভব তা নিরসনকল্পে মানব ৭ উপায়ে রেস্পন্স করতে পারে বলে দেখছিলেন আলবেয়ার কামু।

এক- সুইসাইডঃ সে নিজেরে মাইরা ফেলতে পারে।

দুই- ভুলে থাকাঃ অন্য কিছুতে ব্যস্ত থাইকা ভুলে থাকতে পারে বিষয়টা। যেমন ফেইসবুক ব্যবহার, বিয়া বা অন্য প্রকার বিনোদন।

তিন- অস্বীকারঃ সে অস্বীকার করতে পারে। সে বলতে পারে “না, লাইফের কসমিক মিনিং আছে।”

চার- অভিনয়ঃ সে অভিনয় কইরা যাইতে পারে।

পাঁচ- শিল্পী হওয়াঃ সে শিল্পী হইয়া নানা শিল্প তৈরীর মাধ্যমে সেইগুলাতে মিনিং খুঁজতে পারে।

ছয়- রাজনীতিঃ সে ক্ষমতা, রাজনীতি এগুলির চর্চা করতে পারে।

কামু এসব পন্থার কথা ভাবেন, এবং সব গুলাই বাদ দেন। সপ্তম উপায়টারেই তিনি যথার্থ বলে ধরেন। সেটি হলো,

সাত- গ্রহণঃ লাইফের/পুরা ইউনিভার্সের মিনিংলেসনেসরে স্বাভাবিক ভাবে গ্রহণ করা, এবং এতে বিষন্ন বা হতাশ না হওয়া।

“ওয়ান মাস্ট ইমাজিন সিসিফাস হ্যাপি”

Posted in দর্শন | Leave a comment