মুক্তিযুদ্ধ নিয়া উলটা পালটা বলার স্বাধীনতা

বাংলাদেশ এক রক্তাক্ত প্রক্রিয়ার ভিতর দিয়া স্বাধীন হইছে। এখন কেউ কেউ দাবী করে থাকেন, এই স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়া উলটা পালটা কথা যাতে কেউ না বলতে পারে, আইন করে নিষিদ্ধ করা হউক। এরকম কোন আইন হইলে তা হবে অন্যায় আইন। হলোকাস্ট ডিনাই করছিলো এক লোক ডেভিড আর্ভিং, এই কারণে অস্ট্রিয়া তারে জেলে দেয়। ২০০৬ সালের এই ঘটনার প্রেক্ষিতে দার্শনিক পিটার সিংগার লিখেছিলেন এর বিরুদ্ধে।*

সিংগার হলোকাস্টের ভিক্টিম, কিন্তু তাও তিনি এই ধরনের আইনের ভয়াবহতা-অনৈতিকতা বুঝতে পেরে এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বলেন, যেসব ইউরোপিয়ান দেশে এই আইন আছে তা বাদ দিতে হবে। জন স্টুয়ার্ট মিলের অন লিবার্টি থেকে তিনি উল্লেখ করেন, On Liberty, John Stuart Mill wrote that if a view is not “fully, frequently, and fearlessly discussed,” it will become “a dead dogma, not a living truth.”

মুক্তিযুদ্ধরে ও তার ইতিহাসরে আমাদের লিভিং ট্রুথ বানানোর কথা, কোন ডেড ডগমা নয়। মুক্তিযুদ্ধ নিয়া উলটা পালটা বলার স্বাধীনতা রদ করা যেন পরাধীন পাকিস্তানি মিলিটারী শাসকদের অধীন পূর্ব পাকিস্তান বানানো দেশরে।

* Free Speech, Muhammad, and the Holocaust; Peter Singer, Project Syndicate.

 

-সেপ্টেম্বর, ২০১৭-

Posted in তর্ক বিতর্ক সমসাময়িক | Leave a comment

ক্রিকেটপ্রেমী জামাই বউয়ের সংসার

ফীড দেখতে গিয়া একটা লেখা দেইখা থমকে দাঁড়াইতেই হইল। একজন ফেসবুক জনপ্রিয় ব্যাক্তিত্ব লেখছেন, ‘পনের মিনিট আগে ভাবছিলেন ম্যাচ জিতলে তার বউরে কিস করবেন। আর এখন চড় মারতে করতেছে হাত নিশপিশ।’

ফান কইরাই বলছেন উনি।

গতদিনের খেলা নিয়া এই উক্তি। কিন্তু ভাবলাম যে, বউ কিস খায় বা চড় খায়; জামাইয়ের খেলা দেইখা উৎপন্ন মুডের উপরে নির্ভর করে। এইরকম একটা গল্পের কথা ভাবেন। সমাজের পুরুষতন্ত্র খেয়াল করেন। হাজার বছর ধরে উপন্যাসের আবুলরে মনে করেন। আর ভাবেন এই শিক্ষিত আধুনিক জনপ্রিয় লেখক বা ব্যাক্তিদের নিয়া। কোন পার্থক্য পান কি?

মানসিকতায় যে চরম পুরুষতন্ত্র তাই এই ধরনের উক্তি বয়ানরে মজা করা হইল মনে করে। উক্ত পোস্টে দুই হাজার আট শ ছত্রিশটা লাইক আছে। পুরুষতন্ত্র পাবলিকের মনে, পাবলিকও এমন জিনিশ খায় তাই।

হয়ত বাংলার কোন এক গ্রামে বা শহরতলীতে এমন ফ্যামিলি আছে। যেইখানে বাংলাদেশ হারলে ক্রিকেট প্রেমী জামাই বউরে মারেন। অসম্ভব লাগে নাকী? তাইলে খেলার জায়গায় ব্যবসা ধরেন। জামাই ব্যবসায় লস খাইয়া ঘরে যান, বউয়ের উপর অহেতুক রাগারাগি কইরা ঝাল মেটান, মানসিক টর্চার করেন। এইবার মনে হয়, আপনাদের পরিচিত পরিচিত লাগতেছে ব্যাপারটা।

অক্টোবর ৮, ২০১৬

Posted in তর্ক বিতর্ক সমসাময়িক | Leave a comment

আধুনিক শিক্ষার হিসাব নিকাশ

আমেরিকান মিলিনিয়ার গ্র্যান্ট কার্ডন বলিয়াছেন ‘অধিকাংশ লোকেরই উচ্চশিক্ষা নেয়া ঠিক না।’ কথাটা সত্য। তিনি তার কথার পক্ষে দারুন কথা বলিয়াছেন, যা আমি হেথায় উল্লেখ করি বাংলা ট্রিবিউন পত্রিকার সূত্রে; তিনি বলিয়াছেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে আমার সন্তানদের বলেছি, তারা তিনটি কলেজে পড়ালেখা করতে পারে। তারা এমন নামি কলেজে পড়ালেখা করতে পারে যেখানে তারা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারবে। গুরুত্বপূর্ণ হলো— বুশ পরিবার কোথায় যাচ্ছে, ওবামা পরিবার কোথায় যাচ্ছে? গুরুত্বপূর্ণ হলো— বড় বড় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কোথায় যাচ্ছেন।”

“আমি চাই যে আমার সন্তানেরা কলেজে যাক। তবে সেটা শিক্ষা গ্রহণের জন্য নয়। আমি চাই তারা কলেজে গিয়ে মানুষের সঙ্গে মিশতে থাকুক, তারা বড় বড় প্রভাবশালীদের সঙ্গে সংযুক্ত থাকুক। আমি বলব সেই পুরনো প্রবাদটি, ‘তুমি কী জানো সেটা নয়, তুমি কাকে কাকে জানো সেটাই গুরুত্বপূর্ণ’।

কার্ডন সাহেবের এই কথার দিকে অবিশ্বাসী ভঙ্গিতে হয়ত কেউ কেউ তাকাইতেছেন। তাদের জন্যও আমার সংগ্রহে এনাদার উক্তি আছে। তা বলেছেন বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রকাশ হইয়াছে বিডি নিউজ২৪ নামক পত্রিকায়। শেখ হাসিনা বলেন,

“আমেরিকার অ্যাম্বাসেডর আমার অফিসে এসে এসে সব সময় থ্রেট করত- ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদ থেকে সরালে পদ্মা সেতুর টাকা বন্ধ হয়ে যাবে।”

“অ্যাসিসটেন্ট সেক্রেটারি ব্লেক (রবার্ট ব্লেক) এল… ওই একই কথা। হিলারি ক্লিনটন আমাকে ফোন করল। সেখানেও একই কথা। এমনকি আমার ছেলে জয়কে তিনবার স্টেট ডিপার্টমেন্টে ডেকে নিয়ে গেল। ওকে বলল, ‘তোমাদের অসুবিধা হবে। হিলারি এটা সহজভাবে নেবে না। তোমার মাকে বোঝাও’।”

আমেরিকান এই থ্রেটগুলি সেই সময়ে আসিয়াছিল যখন বয়সের কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী, ক্ষুদ্র ঋণ ব্যবসায়ী ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস সাহেবকে গ্রামীণ ব্যাংকের এমডির পথ হইতে হটানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন।

কার্ডন সাহেব যাহা বলিয়াছেন, অর্থাৎ কোন কোন প্রভাবশালীর মাইয়া এবং পোলা আপনার পরিচিত আছে তাহাই আধুনিক শিক্ষার মুল বিষয়; গুরুত্বপূর্ন এই কথা। এই জল, হাওয়া ও অধিক জনগণ সম্বলিত বঙ্গে খাড়াইয়াও আমরা তা প্রত্যক্ষ করিতে পারিলাম।

Posted in জ্ঞাণ | Leave a comment

বিদেশী নামের উচ্চারণ

ইংরাজরা ডাবল কনসোন্যান্ট উচ্চারণ করে না। তাই টিপ্পু সুলতানকে বলে টিপু সুলতান। কিন্তু আসল উর্দু-হিন্দি টিপ্পু সুলতান।

আমরা ইংরাজদের কাছ থেকে টিপু সুলতান উচ্চারণটাই শিখেছি। পত্রিকা-মিডিয়া সব জায়গাতেই তা প্রচলিত। দেশীয় শব্দের এমন উচ্চারণে বা লেখায় কেউ আপত্তিও করেন নাই।

কিন্তু ইংরাজি থেকে যখন আপনি কোন ফরাসী নাম বা জর্মন নাম যেভাবে লেখা সেভাবেই উচ্চারণ করবেন বা লেখবেন, তখনই ছাগলের তিন নাম্বার সন্তানেরা এগিয়ে আসবে এটা নিয়ে কথা বলতে।

যেহেতু আপনি ফরাসী বা জর্মন জানেন না, তাই নাম ঠিকঠাক ঐ দেশের স্থানীয় উচ্চারনে বলার বা লেখার দায় আপনার নেই। ইংরাজি থেকে পেলে ঐমতই উচ্চারণ করবেন। তাতেই হবে।

ইংরাজরা টিপু সুলতান বলে টিপ্পু সুলতান ব্যক্তিটিকেই বুঝিয়েছে। তাই তাদের এমন ব্যবহার ভুল নয়। তেমনি আপনি যদি জিন নিকোলাস আর্থার রিম্বাড লেখে জঁ নিকোলা আর্তুর র‍্যাঁবোকে বুঝিয়ে থাকেন, তাহলে আপনার লেখা ঠিক।


নোটঃ কেউ প্লেটোরে ঠিকভাবে উচ্চারণ করতে গিয়া প্লাতোন বললে বা লেখলে আমার আপত্তি নাই। আমার আপত্তি তখনই যখন তিনি তার এই মাস্টারি চাপিয়ে দিতে চান, প্লেটো বললে হাসাহাসি করেন বা এটাকে ভুল হিসেবে চিহ্নিত করতে চান তখন।

Posted in জ্ঞাণ | Leave a comment

কান্ডারী বলো এভাবে

“কান্ডারী বলো ডুবিছে মানুষ সন্তান মোরা মার” লাইনকে মানবিক ভেবে লোকেরা মানবিক কজে তা শেয়ার মারেন। কিন্তু লাইনটি জাতীয়তাবাদী ও সেলফিশ। মোর মার সন্তান ছাড়াও অন্য মাদের সন্তান আছে। আর মানুষ ছাড়াও অন্য প্রানীর জীবন আছে। ফলে মানবিক লাইনটা হবে, “কান্ডারী বলো ডুবিছে জীবন সন্তান এক মার।”

কান্ডারী বলতে নজরুল ধরিত্রী মা বুঝিয়েছেন কি?

নজরুল কী বুঝাইছেন, তা না বুঝেও বলা যায়, নজরুলের বুঝানিতে অর্থ নাই। অর্থ আছে তার টেক্সটে এবং কী কনটেক্সটে এই টেক্সট ব্যবহার হচ্ছে এর উপর।

আর ধরিত্রী মা নয়। ধরিত্রী বা দুনিয়া হচ্ছে জমি, ভূমি। মা হচ্ছেন একজন মনুষ্য, মহিলা জাতীর অন্তর্ভূক্ত। যিনি পুরুষজাতির সাথে যৌথভাবে সন্তান উৎপাদনে অংশ নেন। ধরিত্রী এমন নতুন সন্তান উৎপাদনের কাজে নিয়োজিত নন। তিনি মাটি, খনিজ, পানি, এবং জড় বস্তুবিশেষ।

নজরুল এখানে “বাঙালীই” বুঝাইছেন। একই কবিতায় আছে ‘বাঙালীর খুনে লাল হলো যেথা ক্লাইভের খঞ্জর’।

ঐ পরাধীন ব্রিটিশ অধীনে এই কবিতা ঐভাবে হয়ত ঠিক ছিল। জাতীয়তাবাদের উত্থানের কাল যেহেতু। কিন্তু এখন তা ঠিক নয়, কারন এখন বাংলা স্বাধীন, ও দেশের ভেতরে নানা জাতির বাস। আর বৃহত্তর নৈতিক বিবেচনায়, খালি মানুষ নয়, পশু প্রাণী মা’দের সন্তানদের জন্যও আমাদের মায়া (কম্প্যাশন) থাকতে হবে।

Posted in সাহিত্য | Leave a comment