অসততা বিষয়ে

এমন কিছু কাজ আছে বা পরিস্থিতি তৈরী হয়, যখন কোন কাজ আপনি করতে পারবেন, আইনত কোন বাঁধা থাকবে না। আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য কিন্তু কাজটা অনৈতিক হইতে পারে।

ধরা যাক, এক লোক বিপদে পড়েছে। সে তার ব্যবসা বিক্রি করতে চায় কারন তার পয়সার দরকার। আপনার কাছে সে আসল। আপনি বুঝতে পারলেন সে বিপদে পড়ছে। সে তার ব্যবসা বিক্রি করতে চাইল সত্তইর টাকায়। কিন্তু বাজার বিচারে আপনি বুঝতে পারলেন এই ব্যবসার দাম নব্বই টাকা। নব্বই টাকায় কিনলে ক্রেতার কোন লস হবে না, বাজার এবং ব্যবসার গুনমান বিচারে। এখন প্রশ্ন, আপনি কত টাকায় সেই ব্যবসা কিনবেন?

নব্বই ভাগ মানুষ বা তারো বেশী মানুষ, এমন পরিস্থিতিতে চাইবে দাম আরো কমানি যায় কি না। সে চাইবে পঞ্চাশ টাকায় কিনা যায় কি না। এটা অবশ্যই তার অর্থনৈতিকভাবে ভালো সিদ্ধান্ত। অথবা সত্তইর টাকা দিয়া কিনলেও আইনত কোন সমস্যা নাই।

কিন্তু একজন ম্যান অব ভার্চ্যু, এই ব্যবসা কিনবেন নব্বই টাকা দিয়াই। লাভ ও ক্ষতির হিসাব তার কাছে ভিন্ন সাধারণ মানুষের চাইতে। এইজন্যেই তিনি অসাধারন। ত তিনি কীভাবে এমন হইলেন? নিত্য সচেতন চেষ্টার মাধ্যমে, আর কিছুটা হয়ত তার ভিতরেই ছিল। বাকীগুলা তিনি অর্জন করে নেন। (জানুয়ারী ১৯, ২০১৭)

Posted in মানবজাতি | Leave a comment

ট্রাম্পের মেইড ইন বাংলাদেশ শার্ট ও বাংলাদেশীর গর্বের দিকে দৃষ্টিপাত

আমেরিকার কিং খান ট্রাম্প খান শপথ অনুষ্ঠানে মেইড ইন বাংলাদেশ শার্ট পইরা ছিলেন এমন নিউজে বাংলাদেশের ফেইসবুকে গর্ব দেখা যাওয়া শুরু হয়েছে। যারা গর্বিত হইছেন তাদের জন্য ইউএসএ টুডের আরেকটা নিউজ। অক্সফামের ফালতু স্টাডি (আট জন ব্যক্তির সম্পদের পরিমাণ দুনিয়ার গরীব অর্ধেক লোকের সম্পদের সমান।) নিয়া তারা যে রিপোর্ট করছিল, এই রিপোর্টের দ্বিতীয় লাইনই ছিল এমনঃ

“একজন টপ কর্পোরেট সিইও বাংলাদেশের গার্মেন্ট ফ্যাক্টরীতে কাজ করা দশ হাজার ব্যক্তির সমান আয় করেন বছরে।”

এইভাবে বাংলাদেশ পরিচিত হয় বহিঃর্বিশ্বে। এইটাই পরিচিতি তথা ব্র্যান্ডিং। আপনাদের ক্রিকেট টিম গোল দেয় যে নিয়মিত তা পরিচিতিতে যুক্ত হয় না ঐভাবে। দেশ পরিচিতি পায় গার্মেন্ট শ্রমিকের দেশ, যারা অমানবিক বেতন পায়, ভবন ধ্বইসা মরে। এইটাই বাস্তবতা। ফলে মেইড ইন বাংলাদেশ শার্টে লাফাইয়েন না বুর্জোয়া সন্তানেরা। যারা এগুলি বানায় তাদের কুত্তা খাটানি দিয়াই আপনাদের সুখের স্ট্র্যাকচার দাঁড়াইয়া আছে। এইটা ভাইবা একটু লজ্জ্বা পাইলে পাইতে পারেন।

আর লজ্জ্বা না আসলে আর কী করবেন। হলিউডের বা বলিউডের দুইটা মুভি দেখুন, খেলা দেখুন আর হালকা মুতে শুয়ে পড়ুন। (জানুয়ারী ২১, ২০১৭)

Posted in তর্ক বিতর্ক সমসাময়িক | Leave a comment

প্রেমের টানে

প্রেমের টানে আমেরিকা থেকে একজন রমনী বাংলাদেশে চলে এসেছেন এবং এদেশীয় এক বঙ্গসন্তানকে বিয়া করছেন। এই নিউজ প্রায় সব পত্রিকাতেই দেখা যাইতেছে, আর তার শেয়ার চলতেছে। ইস্যুহীন সময়ে এইটাই জনপ্রিয় নিউজ। আশাহীনতার কালে আশাজাগানিয়া। এই নিউজের এত জনপ্রিয়তা দেখে দেখতে লাগলাম প্রেমের টানে আরো কী কী হয় এই দেশে। দেখার মাধ্যম মিডিয়াতে আসা নিউজ।

সেইসব হতে জানা গেল, ভারত থেকেও সীমান্ত পাড়ি দিয়ে এসেছেন নারী প্রেমের টানে। প্রথম আলোতেও নিউজ হইছে কিন্তু সেই নিউজ জনপ্রিয়তা পায় নাই। অষ্ট্রেলিয়া থেকেও প্রেমের টানে নারী এসেছেন, মালয়সিয়া থেকেও এসেছেন, আয়ারল্যান্ড থেকে বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত নারী এসেছেন। তারা পপুলার হইতে পারেন নাই।

আমেরিকা থেকে আসা এই নারী, এলিজাবেথ ও তার প্রেমকাহিনী একচেটিয়াভাবে দখল করে আছে মিডিয়ার প্রেমের টান। প্রেমের টান নিয়া দেখতে গিয়া আরো দেখলাম নয়াদিগন্ত টাইপ পত্রিকা মাঝে মাঝে নিউজ করে প্রেমের টানে ধর্মবদল। সেই নিউজে হিন্দু নারী প্রেমের টানে মুসলিম হইয়া নাম বদলান। প্রেমের টান বা নির্দোষ প্রেম যে কেবলই পবিত্র প্রেম নয়, তা এইসব নিউজ দেখেই বুঝা যায়। প্রেমের টানের মাঝেও পলিটিক্সের টান থাকে, ইতিহাস মতে অরাংজেবকে তার যোধপুরী বেগমের ঘরে টুপি খুইলা প্রবেশ করতে হইত।

প্রেমের টানে ভারতীয় নারীরা আসেন অনেক ঝক্কি ঝামেলা সহ্য করে। এইসব নিয়া কোন থ্রিলার লেখক থ্রিলারও লেইখা ফেলতে পারবেন, রোমান্টিক থ্রিলার। দালালের হাতের নিচ দিয়া প্রায় জীবন বাজি ধইরা এরা আসেন। দূর বৈদেশ থেকে প্রেমের টানে নারীদের আসা নিউজের পপুলারিটির ক্ষেত্রে কেবলই প্রেম যদি কারণ হইত, তাইলে এইসব নিউজই বেশী জনপ্রিয় হইবার কথা। কারণ প্রেমের জন্য এনাদের ত্যাগ বেশী। কিন্তু এইসব নিউজ জনপ্রিয় হয় না। নিউজের ভোক্তা হয়ত ভাবে, “ইন্ডিয়া থন আইছে, ধুর! এ আর এমন কী!”

ফলে আমরা দেখতে পাইতেছি প্রেম নয়, নারী কোথা থেকে আইতেছেন তা বিবেচ্য। আর স্থান হিসেবে ট্রাম্পের দেশ আমেরিকা সর্বোচ্চ সম্মান পাইয়া থাকেন। ইংলান্ডও হয়ত পাইবেন এমন। চামড়া হোয়াইট হইতে হবে।

এই প্রেমের টানের নিউজ, অর্থাৎ এলিজাবেথ ও তাহার প্রেমিকের কাহিনীর জনপ্রিয়তা একটা ইন্টারেস্টিং সম্ভাবনা আমাদের দেখায় বলে মনে হইতেছে। এলিজাবেথরে দেখতে দূর দুরান্তের গ্রাম হইতে মানুষেরা আসতেছেন। ফটোও তুলতেছেন, জামাই বউরে আশীর্বাদ কইরা, সম্ভবত। এমন ঘটনা যদি বেশী কইরা চাউড় হয় আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় তাইলে এডভেঞ্চার প্রিয় আমেরিকান মাইয়ারা বাংলাদেশে প্রেম করার প্রতি আকৃষ্ট হইবেন। যত প্রেম তত সম্ভাবনা। আমি যতটুকু তাদের কালচার নিয়া বুঝি, তাতে মনে হয় এডভেঞ্চার তাদের জন্য প্রয়োজনীয় হইয়া পড়ছে। মিখায়েল হানেকে ইন্টারভিউতে বলছিলেন তাদের পশ্চিমের লাইফে এডভেঞ্চার নাই, সব ম্যাড়ম্যাড়ে। তো এডভেঞ্চার প্রিয় আম্রিকান মাইয়ারা যখন দেখবেন, একটা প্রেম কইরা, দেশ ভ্রমণ কইরা সাথে দারুন এডভেঞ্চার ফ্রীতে পাওয়া যায়, তারা তা লুইফা নিতে পারেন। বিশেষত ড্রাগ ট্রাগ যারা ছাড়তে চান তাদের ক্ষেত্রে এইটা কাজের হবে।

আর বাংলাদেশের যুবক বেকারগোষ্ঠীর জন্য এইটা দারুণ কাজের ক্ষেত্র হইয়া উঠবে তখন। সাথে সাথে কুইকলি পপুলার হওয়ার সুযোগ। রূপকথায় যাকে বলে রাজ্য, রাজকন্যা আর আলাদীনের প্রদীপ, সব একসাথে। আর বিয়াটাও টিইকা যাইতে পারে। কারণ বিয়ারা রহস্যময়। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে এবং আমেরিকার সাথে আমাদের গভীর ও প্রেমের সম্পর্ক স্থাপনে তা হেল্প করবে। অনেকে ভুরু কুচকাইতে পারেন, যুবকেরা কী এই কাজ করবে, এত হীনকাজ ইত্যাদি বইলা। কিন্তু তাদের উদাহরণ দেয়া যাবে ইতিহাস থেকে। আগে রাজারা বিয়া করতেন রাজ্যের জন্য। প্রভাবশালীরা বিয়া করতেন প্রভাব ও সম্পত্তির জন্য। বিয়া ধনী হইবার একটা উপায়ই ছিল ইতিহাসে। আর লি কুয়ান বইলা গেছেন আগামীতে জনসংখ্যাই হবে মূল পাওয়ার। সেই আগামী চইলা আসছে। আমাদের পাওয়ার, অর্থাৎ জনশক্তির কাজে লাগার টাইম এখন।

শেষকথা হইল, লক্ষণীয় বিষয় প্রেমের টানে নারীরা দেশে আসার খবর আসে, পুরুষেরা অন্য দেশে প্রেমের টানে যান কি না কে জানে। হয়ত যান কিন্তু তার খবর আসে না বা পাওয়া যায় না। অন্যদেশের পত্রিকাতেও পাওয়া যাইবে না সম্ভবত, যেহেতু বাংলাদেশ অত পাওয়ারফুল কান্ট্রি না। পাওয়াওরফুল ও ধনী দেশের লোকের প্রেমের টান শক্ত হইয়া থাকে, নিউজের আতিশয্যে তাই মনে হয়।   (জানুয়ারী ২২, ২০১৭)

Posted in তর্ক বিতর্ক সমসাময়িক | Leave a comment

দি মাঞ্চুরিয়ান ক্যান্ডিডেট

 

কোরিয়ান যুদ্ধে আমেরিকান কিছু সৈন্যদের ধরে চীনের মাঞ্চুরিয়াতে নেয় রাশান সৈন্যরা। সেখানে তাদের ব্রেইনওয়াশ করা হয়। এরপর তাদের কাজে লাগানো হয় একজন রাশার চর আমেরিকান রাজনীতিবিদকে সাহায্য করার কাজে। রিচার্ড কন্ডনের রাজনৈতিক থ্রিলারের উপর ভিত্তি করে ১৯৬২ সালে নির্মিত ফিল্ম। এইটি দারুণ রাজনৈতিক থ্রিলার ফিল্ম হিসেবে। আরেকটি রাজনৈতিক থ্রিলার আছে, রোমান পোলানস্কির ঘোস্ট রাইটার। ওইটাও ভালো।

Posted in চলচ্চিত্র | Leave a comment

মাইয়াদের সিগারেট খাওয়া

এইটা এক মারাত্মক সমস্যা হিশাবে উইঠা আসে আমাদের ফেইসবুক সমাজে। আগেও দেখছি পশ্চিম বাংলার গ্রুপে এই নিয়া লোকদের আপত্তি এবং তার প্রতিবাদের খেলা। জ্যারেড ডায়মন্ড থিওরী দিছিলেন, বা জাহাবির সেক্সুয়াল সিলেকশনের হাইপোথিসিসের আলোকে বলছিলেন, পুরুষেরা সিগারেট খায় বা আত্মবিনাশী কিছু কাজ করে বিপরীত লিঙ্গরে আকৃষ্ট করার জন্য, অবচেতনে। যদিও তার এই ধরনের সিগন্যাল অযৌক্তিক এবং অন্য প্রাণীদের ক্ষেত্রে তা যেমন কাজ করে তা মানুষের ক্ষেত্রে করে না। কারণ মানুষের বুদ্ধিবৃত্তি বাইড়া গেছে।

পুরুষের সিগারেট খাওয়া বা আত্মবিনাশী কাজের মেসেজ এই, দেখো আমি এইগুলা কইরাই টিইকা আছি। অর্থাৎ, আমার জীন ভালো। অর্থাৎ, তুমি আর আমি মিলে ভালোমন্দ কিছু করে যদি সন্তান উৎপাদন করি তাইলে এরা ভালো জীন পাইয়া ধরাধামে টিইকা থাকবে।

মোটের উপর এইরকম ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন জ্যারেড ডায়মন্ড। এইটা একদিক থেকে ব্যাখ্যা, কংক্রিট সত্য কিছু না এবং আরো নানা ব্যাখ্যা সম্ভব মানুষের আত্মবিনাশী কাজের।

আমি এইটাই বিবেচনায় নিলাম, এবং এর মাধ্যমে দেখা যাইতে পারে কেন আমাদের পুরুষেরা সিগারেট খাইতে থাকা নারীদের ফটো দেখলে আগ্রাসী হইয়া উঠেন তার কিছু কারণ সম্পর্কে। এইটা হইতে পারে যে, তারা মানতে চান না নারীদের সারভাইভালের ক্ষমতা, বা তার এইরকম প্রকাশ তাদের পুরুষত্বরে আঘাত করে অবচেতনে। এইটা যে অবচেতন পুরুষত্বরে আঘাত করে তার আরেকটা প্রমাণ হইল কলকাতার ফিল্মে দেখবেন নারী স্বাধীনতা দেখাইতে মহিলাদের সিগারেট খাইতে দেখা যায়। অর্থাৎ, পরিচালক এইটা ব্যবহার কইরা সহজেই স্বাধীন নারী বা নারীবাদ ইত্যাদি বুঝাইয়া দিতে চান। অর্থাৎ, নারীর সিগারেট খাওয়া একটা বিপ্লব হইয়া দাঁড়ায়, কেন দাঁড়ায়? কারণ এর প্রতি তীব্র বিদ্বেষ আছে এতদঞ্চলের পুরুষতন্ত্রের।

প্রাচীনকালের ছবি, হুকা খাইতে আছেন মহিলারা, অথবা গ্রামের দিকে অনেক মহিলারা হুকা খাইতেনও। এগুলা তখন চা পান সুপারি ইত্যাদির মত ছিল। তাই তখন এইটা দিয়া সিগনালিং এর কাজ চলে নাই। যখন আধুনিক কালে দেখা গেল সিগারেট খারাপ, খাইলে ক্ষতি হয়; তখন তার সিগনালিং পাওয়ার বাড়ল।

আবার দেখবেন যারা দিনমজুর মহিলা আছেন, তারা সিগারেট খাইলে এবং তার ছবি যদি আসেও, মিডলক্লাস পুরুষতান্ত্রিক সমাজ এতে কোন প্রতিবাদ করবে না। কিন্তু কোন মিডলক্লাস মাইয়া বা মহিলা যদি সিগারেট খান, বা তার ছবি আসে; তখন পুরুষকূল প্রতিবাদ করেন। অর্থাৎ, যেইখানে তাদের সেক্সুয়াল প্রোডাক্টিভ সম্ভাবনা আছে, তাদের প্রতিবাদ সেইখানে।

Posted in তর্ক বিতর্ক সমসাময়িক | Leave a comment