নিজেকে ভালোবাসবেন না বেশী

 

সবচেয়ে বিপদজনক উপদেশ হইল ‘নিজেকে ভালোবাসো” বা “লাভ ইওরসেলফ”। এইটা মারাত্মক ব্যাকফায়ার করতে পারে। ভালোবাসা হইল অন্ধ, ভালোবাসা হইল ভালোবাসার ব্যক্তি বা বস্তুর ভুল দেইখাও না দেখা। সে ব্যক্তিটি নিজে হইলে তো অবস্থা খারাপ। নিজের ভুল আর চোখে পড়বে না।

এখন কেউ প্রশ্ন করতে পারেন, মোটিভেশনাল গুরুরা কেন খালি লাভ ইওরসেলফ লাভ ইওরসেলফ বলে।

মোটিভেশনাল গুরুদের কাজই এই, আপনারে ভালো অনুভব করানো। যাতে আপনে আরাম পান।

লাভ ইওরসেলফ নয়, নিজেরে ক্রিটিক্যালিই দেখুন। তাইলে ইম্প্রুভমেন্টের অনেক জায়গা হয়ত দেখবেন।

Posted in মানবজাতি | Leave a comment

রাসেল মিনসের মার্ক্সবাদ সমালোচনা

মার্ক্সবাদ নিয়া রাসেল মিনসের সমালোচনামূলক বক্তব্য পড়লাম দুই দিন আগে। আমেরিকান ইন্ডিয়ান লোকদের অধিকার বিষয়ে অগলালা লাকোটা একটিভিস্ট ছিলেন তিনি।

বক্তব্যের শুরুতেই তিনি লেখার বিরোধীতা করেন। বলেন লেখা তাদের সংস্কৃতিতে বিকৃত উপস্থাপন হিসেবে দেখা হতো, তারা বিশ্বাস করতেন কথাবার্তায়। ফলে তিনি আসলে বক্তৃতাটি লিখেন নি, বলে গিয়েছেন, শুনে আরেকজন লিখেছে।

ইউরোপের সাথে বা ইউরোপিয়ান কালচারের সাথে অন্য এলাকার লোকদের কালচারের পার্থক্যটা তিনি দেখাতে চেয়েছেন। তার মতে, পুঁজিবাদ যেমন ইউরোপিয়ান তেমনি মার্ক্সবাদও। হেগেলিয়ান র‍্যাশনাল ধারার উত্তরসুরী মার্ক্সবাদ। উৎপত্তি ইউরোপে।

তার মতে, ইউরপিয়ানরা কোন পাথর খনি পেলে সেখান থেকে যত পারা যায় পাথর তুলবে, অন্য জায়গায় এই পাথর দিয়ে উন্নয়নের নাম করে। কিন্তু খনি অঞ্চলে পরিবেশের ক্ষতি তারা বিবেচনায় নেয় না। ইন্ডিয়ান আমেরিকানদের কনসেপ্টে উন্নতি এমন নয়।

তিনি বলেন, ক্যাপিটালিস্ট সিস্টেম যে উন্নতির চাকা ঘুরাতে চায়, মার্ক্সবাদ তাই বজায় রেখে কাজ করে। তিনি রাশিয়া এবং চীনের উদাহরণ দেন।

Posted in সমাজ | Leave a comment

ইভিল কীঃ আইখমান ইন জেরুজালেম

 

‘আইখমান ইন জেরুজালেম: আ রিপোর্ট অন দ্য ব্যানালিটি অব ইভিল’

রাজনৈতিক দার্শনিক হানা আরেন্ড এর লেখা বই। এই বইটির টাইটেল যেভাবে বইয়ের সারবস্তু তুলে ধরেছে, আমি এমন আর দেখি নি। ব্যানালিটি অভ ইভিল। অর্থাৎ, ইভিল বলতে আমরা যা বুঝি তা ব্যানাল!

হানা নিজে ইহুদি, তিনি নিউ ইয়র্কার পত্রিকার পক্ষে এডলফ আইখম্যানের বিচার পর্যবেক্ষণে গিয়েছিলেন। আইখম্যান ছিল হিটলারের বড় অফিসার। ইহুদি নিরীহ নিরপরাধ লোকদের কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে পাঠানোর দায়িত্বে ছিল সে। পৃথিবীর এই বর্বরতম একটি হত্যাকান্ডে নিজ হাতে সহায়তা করে গেছে আইখম্যান।

যুদ্ধের পরে সে পালিয়ে ছিল। ইজরাইল রাষ্ট্র হওয়ার পর মোসাদের জন্ম হয়। মোসাদের টপ লিস্টে ছিল এই আইখম্যানকে ধরা। বহু চেষ্টার পর আর্জেন্টিনা থেকে মোসাদ আইখম্যানকে কিডন্যাপ করে বা ধরে নিয়ে আসে।

এ নিয়ে আর্জেন্টিনার সাথে ইজরাইলের অনেক কূটনৈতিক ঝামেলা হয়। অপরাধী ধরেছে এজন্য নয়, আর্জেন্টিনার পুলিশকে না জানিয়ে এমন কান্ড করা আন্তর্জাতিক আইনে অন্যায়। কিন্তু আর্জেন্টিনা ইজরায়েলের সাথে পেরে উঠে নি।

আইখম্যানের বিচার শুরু হয় জেরুজালেমে। শাস্তি মৃত্যুদন্ড। ইজরায়েলের একমাত্র মৃত্যুদন্ড।

এই বিচার দেখছিলেন হানা আরেন্ড। তিনি লক্ষ করলেন, আইখম্যান অন্য সব লোকের মতই স্বাভাবিক একজন মানুষ। সে স্বীকার করে নিল সে যা যা করেছে। কিন্তু জানাল সে এমন কিছুই করে নি যা উপর থেকে নির্দেশ দেয়া হয় নি।

অর্থাৎ, এই আইখম্যান এমন ব্যক্তি যে উপরের নির্দেশ মেনে চলে। অন্ধ আনুগত্য করেছে। তার কেরিয়ারের উন্নতির জন্য, হয়ত ভালো পোস্ট, মান সম্মানের জন্য। যেমন স্বাভাবিক লোকেরা উপরের নির্দেশ মেনে থাকেন।

মানুষ অন্ধভাবে যখন অথরিটি মানে তখন এর প্রভাব হয় মারাত্মক। ইভিল বা শয়তান হিসেবে এইসব আনুগত্য মানা লোকদের দেখলে ভুল হবে, কারণ এরা অন্য সবার মতই ভালো-মন্দ মেশানো লোক। ইভিল খুবই ব্যানাল একটি বিষয়।

আমাদের সচেতন থাকা উচিত অন্ধ আনুগত্যের ব্যাপারে।

যখন আমরা ব্যক্তিকে ইভিল হিসেবে চিত্রায়িত করি, তখন আমরা ধরে নেই ঐ ব্যক্তির কিছু চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কারনে সে ইভিল হয়েছে। তখন আমরা বুঝতে পারি না যে অন্ধ আনুগত্য (যেকোন মতাদর্শ, শাসকের প্রতি) আমাদেরকে বা আমাদের মত গুড পিপলদেরও আইখম্যান বা কাদের মোল্লা বানাতে পারে।

সংযুক্ত পাঠঃ

অথরিটির ভুল প্রভাব থেকে বাঁচার উপায়।

Posted in দর্শন | Leave a comment

হুইসেলের দাম কত দেন আপনে?

 

বেঞ্জামিন ফ্রাংকলিনের এই কাহিনী। তিনি তখন অনেক ছোট, বয়েস সাত বছর। একবার এক ছুটির দিন বন্ধুদের মারফত কিছু টাকা পাইলেন তিনি। গেলেন খেলনার দোকানে। রাস্তা দিয়া যাবার সময় দেখছিলেন এক পোলা বাজাইতেছে হুইসেল। তো তিনি দোকানে গিয়া তার সব টাকা দিয়া কিইনা নিলেন হুইসেল। হুইসেল কিইনা বাড়ি আসলেন ও তা বাজাইতে লাগলেন। পরিবারের লোকজন বিরক্ত হইলেন। তার ভাই বইনেরা বলতে লাগলেন যে তিনি প্রায় চারগুণ বেশী দাম দিয়া এইটা কিনছেন।

তারা এই মূর্খতা নিয়া হাসাহাসি করলেন। তখন পিচ্চি বেন ফ্রাংকলিনের চোখে আইল জল। হুইসেল কিইনা যত আনন্দ পাইছিলেন তার চাইতে বেশী বেদনা তিনি অনুভব করতে লাগলেন। এই টাকা দিয়া আরো ভালো ভালো কত কিছু তিনি কিনতে পারতেন সেগুলি তার মনে হইতে লাগল।

এরপর থেকে যখনই কোন অপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনার ইচ্ছা হইত তার তখনই তিনি এই ঘটনা নিজেরে মনে করাইয়া বিরত থাকতেন ও টাকা বাঁচাইতেন।
পরে বড় হইলে তিনি দেখলেন, বাস্তব জীবনে প্রচুর প্রচুর মানুষ তাদের হুইসেলের জন্য বেশী দাম দিতেছে।

নিজের নৈতিকতা বিসর্জন দিতেছে, নিজের স্বাধীনতা বিসর্জন দিতেছে, ফ্যামিলি বা বন্ধুদের বিসর্জন দিতেছে, স্বাস্থ্যরে বিসর্জন দিতেছে বা অন্যের পা চাটা হইতেছে ফেইমের জন্য, চাকরীর জন্য, কেরিয়ারে সফল হইবার জন্য, প্রতিষ্ঠার জন্য। যেমন, আমি দেখতে পাই তুচ্ছ প্রকাশকদের বা সিনিয়র লেখকদের পা চাটা লেখককূল।

এরা হুইসেলের জন্য বেশী দাম দিয়া যায়।

Posted in সমাজ | Leave a comment

পুরুষের ফেইক নারীবাদেও সমস্যা নাই

নারীসঙ্গ লাভের জন্য বা নারীদের নিকটে যাইতে পুরুষদের নারীবাদ চর্চারে আমরা কি এক ধরনের প্রেম চর্চা হিসেবে দেখতে পারি নে? এতে হিপোক্রিসি আছে। হিপোক্রিসি হচ্ছে একটা করছি দেখাইয়া আরেক উদ্দেশ্য সাধন। প্রায় প্রেমই এমন হিপোক্রিসির মধ্য দিয়া সংঘটিত হয়। নায়ক নায়িকা কিন্তু প্রথমেই পরস্পরকে প্রেম নিবেদন করেন না। একটা প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে তারা যান, যাকে বলা যায় হিপোক্রিটিক পদ্বতি। ফলে পুরুষ নারীবাদীদের এই চর্চাকে অযথা দোষ দেয়া যায় না। সব প্রেমই বা নারীদের নিকট যাওয়ার পদ্বতি যেহেতু এই সমাজে এমনই।

Posted in প্রেম | Leave a comment