ব্যবসার পার্টনারী

হাসান সাহেব গোসলের জন্য বাথরুমে ঢুকতে গিয়ে দেখলেন তোয়ালে জড়িয়ে শাওয়ার ছেড়ে তার বউ বের হচ্ছেন। এইসময়ে দরজায় কলিংবেলের শব্দ হল। তোয়ালে জড়িয়েই হাসান সাহেবের বউ গিয়ে দরজা খুললেন। দেখলেন দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন প্রতিবেশি মকবুল সাহেব।

হাসান সাহেবের বউ কোন কথা বলার আগেই মকবুল সাহেব বললেন, “তোয়ালেটা ফেলে দিলে এই মুহুর্তেই আমি আপনাকে দশ হাজার টাকা দেব।”

হাসান সাহেবের বউ কয়েক মুহুর্ত চিন্তা করে তোয়ালেটা ফেলে দিলেন। মকবুল সাহেবও তাকে দশ হাজার টাকা দিয়ে চলে গেলেন।

হাসান সাহেবের বউ আবার তোয়ালেটা জড়িয়ে যখন ভেতরে গেলেন, হাসান সাহেব জিজ্ঞেস করলেন, “কে এসেছিল?”

হাসান সাহেবের বউ বললেন, “প্রতিবেশি মকবুল সাহেব।”

হাসান সাহেব বললেন, “মকবুল সাহেবের কাছে আমি দশ হাজার টাকা পাই। এ ব্যাপারে কিছু বলেছে?”

নীতিশিক্ষাঃ

ব্যবসার পার্টনারের সাথে ক্রেডিট এবং ঝুঁকি সংক্রান্ত বিষয়াবলী নিয়ে স্বচ্ছ আলাপ আলোচনা করা থাকলে অস্বাভাবিক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হতে পারে।

-বাংলায় রূপান্তুর-

ফেব্রুয়ারী ১৫, ২০১৫

Posted in উদ্যোক্তা | Leave a comment

ফেইক জালালউদ্দিন রুমী

আফগানিস্তানে জন্ম নেয়া জালালউদ্দিন রুমী নিজে নামায রোজা করতেন। ছিলেন সুন্নী মুসলমান। কোরানেও হাফিজ ছিলেন সম্ভবত। তার কবিতাগুলা কোরান থেকে সরাসরি প্রভাবিত। আধ্যাত্মিকতা তিনি কোরান থেকে নিছেন, নিজে পারসিয়ান ভাব মিশাইছেন এর সাথে। রুমীর এই আধ্যাত্মিকতা পশ্চিমে জনপ্রিয় হইছে বেশী ইংরাজি অনুবাদের মাধ্যমে। সেইসব ইংরাজি অনুবাদে রুমীর কবিতা থেকে দূর কইরা দেয়া হইছে কোরানিক সব রেফারেন্স, ইসলামিক কালচার। আবার যেখানে ধরেন দাউদ বা জোসেফ এইসব নবীদের কথা আছে, যারা বাইবেলেও উল্লেখ আছেন নবী হিশাবে তাদের রাখছেন অনুবাদকেরা। অর্থাৎ ইসলামিক কালচারহীন এক রুমীর কবিতা তারা নিজেরা বানাইছেন, বানাইছেন একজন ফেইক রুমী। রুমীর আধ্যাত্মিকতার চাইতে অনেক বেশী আধ্যাত্মিকতা আছে কোরানে, যেখান থেকে প্রভাবিত রুমীর কবিতা। দীপক চোপরা টাইপের লোকেরা বানাইছেন আরেক অদ্ভুত রুমী নিজেদের স্বার্থে। ফলে অরিজিনাল ফার্সির রুমী, মুসলিম রুমীর লগে তাদের রুমীর অনেক ফারাক। তাদের অনুবাদিত রুমী হইল ইসলামরে বাদ দেয়া রুমী, হালকা পাতলা লুতুপুতু আধ্যাত্মিকতা; যেইসব আপনারা ইংরাজিতে দেখেন। ধর্ম হিশাবে ইসলাম যেই আধ্যাত্মিকতা দিছে কোরানে, তার ব্যাপ্তী আরো বিস্তৃত। রুমীর কবিতার ইংরাজি অনুবাদে ইসলামরে মুইছা দেবার এই চক্রান্ত কালচারাল কলোনিয়ালিজম বলে অভিহিত ও খারাপ। যুক্ত লেখার লিংকে এসব নিয়া বিস্তারিত আলোচনা আছে।  (১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭)। 

Posted in সাহিত্য | Leave a comment

বাকের ভাই

বাকের ভাইয়ার মিত্তু ঠেকাইতে মানুষ রাস্তায় নামছিলো এইসব বলে কত নাটুকে বক্তব্য দেয়া হয়। পড়লে মনে হবে হুমায়ুনের সব কৃতিত্ব যেন এই চরিত্র লেখা। এসব তুচ্ছ ধরনের কথাবার্তা। টেলিভিশন সিরিয়ালের কোন ক্যারেক্টারের মিত্তু তার দর্শকদের টাচ করতেই পারে। এইটা স্বাভাবিক। গল্পে বালতি বালতি আবেগ পরিমাণমত মেশানো থাকলে এবং ভালো মত পরিচালনা হইলে, তা অসম্ভব কিছু না। বাকেরের চরিত্র টিভিতে তৈরীর কৃতিত্ব পরিচালক বরকত উল্লাহ এবং অভিনেতা নুর ভাইয়ারও।

গটে’র জন ইস্নো বা সুলেমানের পাশা ও অথবা ইন্ডিয়ান বাংলা সিরিয়ালের জনপ্রিয় ক্যারেক্টার মরলে সোশ্যাল মিডিয়ায় বা নিজেদের মধ্যে আলোচনায় দুঃখ প্রকাশ করেন তাদের ফ্যানেরা। আগের যুগ হইলে তারা রাস্তায় নামতেন।

জানুয়ারী ১১, ২০১৭

Posted in বুর্জোয়া মিডল ক্লাস | Leave a comment

হিটলার

শিল্পী ও যুদ্ধবাজ রেসিস্ট এডলফ হিটলারের ৭৫০ টি ছবি নিয়া একখানা বই নিউ ইয়র্কের নানা প্রকাশনীতে গেছিল প্রকাশের জন্য। তারা প্রকাশ করেন নাই। কারণ দেখাইছেন, ‘এতে হিটলারের মানবিক দিক ফুইটা উঠার ঝুঁকি রইয়া যায়।’ কী ভয়ংকর কথা! যেন হিটলার মানুষ না, ভীন গ্রহের এলিয়েন বা নাজিমউদ্দিনের হলিয়েন।

হিটলার মানুষই ছিলেন। শিল্পবোদ্ধা, শিল্পী, অসাধারন অভিনেতা। অন্য সব মানুষের মত মানুষ। এইটা মাইনা নেয়া ভালো। তাতে অন্য মানুষ নামের প্রানীরা বুঝবে, তাদেরও হিটলার হইয়া উঠার একটা সম্ভাবনা আছে, গহীনে লুক্কায়িত।

জানুয়ারী ১২, ২০১৭

Posted in মানবজাতি | Leave a comment

বাংলা ছবির নায়কেরা ভাল ডিসিশন মেকার

 

এক ধরনের বাংলা ফিল্মে দেখা যাইত নায়ক গরীব, প্রেম করে ধনী আহমদ শরীফের মেয়ের লগে। আহমদ শরীফ স্বাভাবিক ভাবেই তা মেনে নেন না। তিনি তখন একবার নায়করে ডাইকা পাঠান আর ব্রিফকেস ভর্তি টাকা দিয়া বলেন, আমার মাইয়ার জীবন থেকে চইলা যা।

কিন্তু বুদ্ধিমান নায়ক তা নেয় না। এখন অনেকে বলবেন নায়ক প্রেমের টানে কাজটা করছে, অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোন থেকে বাজে সিদ্ধান্ত। খুব সম্ভবত, দেশের মানুষেরা এই অবস্থায় পড়লে টাকা ভর্তি ব্রিফকেসই নিতেন।

আমাদের নায়ক আসলে বাজে সিদ্ধান্ত নয়, ভালো সিদ্ধান্তই নিয়েছেন। অর্থনৈতিকভাবে বর্তমানের অল্প লাভের চাইতে ভবিষ্যতের বেশী লাভ তিনি দেখেছেন। তার সাথে “লাভ” নামের পপুলার বিষয়টাও আছে যাকে হিসাবের বাইরে রাখা যায়। নায়কের এই ভবিষ্যত দেখে সিদ্ধান্ত নেয়া বাঙালী বৈশিষ্ট্যের বাইরে। জাতিস্বত্তার দিক থেকে বাঙালী নগদ লাভের পক্ষে, ইহকালপন্থ (বুদ্ধিজীবি ও চিন্তক অধ্যাপক আহমদ শরীফের লেখায় এই বিষয়ে আলোকপাত আছে। বইয়ের নাম কালিক ভাবনা।)।

নায়কের এই সিদ্ধান্তের ফলে পরবর্তীতে সে নায়িকা পায়, নায়িকার বাপ আহমদ শরীফের বিশাল বিত্ত বৈভব সবই পায়।

ভবিষ্যতের দিকে দেখে সিদ্ধান্ত নিলে মানুষ যৌক্তিক অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়, এর জ্বলজ্যান্ত উদাহরণ নায়কেরা কত দেখাইয়া গেলেন। মানুষ বুঝল না।

(জানুয়ারী ১৪, ২০১৭)

Posted in চলচ্চিত্র | Leave a comment