স্ট্যালিন ও হাততালি

 

স্ট্যালিনের কালে নাকী এমন অবস্থা ছিল, যে ব্যক্তি আগে হাততালি বন্ধ করত তারে শাস্তি দেয়া হইত। এর জন্য কেউ হাততালি বন্ধ করতে চাইত না, হাততালি চলতেই থাকত। পরে ঘন্টির ব্যবস্থা করা হয়। ঘন্টি বাজলে হাততালি বন্ধ করা যাবে।

এই ভিড্যুতে সেইরকম অবস্থা দেখা যাচ্ছে। স্ট্যালিন নিজেই মনে হইল বিরক্ত হাততালির এমন দীর্ঘায়ন দেখে।

 

Posted in রাজনীতি | Leave a comment

অল্প বিদ্যা

অল্প বিদ্যার প্রয়োগ করুন। অল্প বিদ্যা প্রয়োগ করতে করতেই বেশি বিদ্যা অর্জন হয়। অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী প্রবাদের সাথে গলাগলি করে যদি বেশি বিদ্যার আশায় বসে থাকেন, তাহলে বসেই থাকবেন। বেশি বিদ্যা অর্জন আর হইবে না কোনকালে। বিদ্যা অর্জন যদি হয় প্রয়োগের মাধ্যমে, তাহলে প্রবাদখানা বিদ্যার্জনের পথে বাঁধা।

আসল কথা হচ্ছে, কমন সেন্স রেখে প্রয়োগ করতে হবে বিদ্যা, তা বেশি বা কম যাইহোক। কমন সেন্স না থাকলে বেশি বিদ্যা প্রয়োগেও গর্তে পড়ার সম্ভাবনা আছে। আর বেশি বিদ্যা বলে কোন জিনিস আছে নাকী! জানার, শেখার শেষ নাই।

Posted in জ্ঞাণ | Leave a comment

ডেটিং এপ – লাভ ম্যারেজ বিষয়ক তত্ত্ব

লাভ ম্যারেজ বেশি ঠিকে না দেখা যায়। এর চেয়ে এরেঞ্জড ম্যারেজ বেশি ঠিকে। ঐতিহাসিকভাবেও ম্যারেজের সাথে লাভ টাভের সংস্লিষ্টতা অল্প। ম্যারেজ একটা ব্যবসায়িক প্রকল্পই। বিশ থেকে ত্রিশ বছরের মধ্যে নাকী মানুষের জীবন দৃষ্টি চল্লিশ বারের মত পরিবর্তিত হয় সাধারনত। ফলে লাভ ম্যারেজ না ঠিকার সম্ভাবনা বেশি হইয়া যায়।

আধুনিক যুগে ডেটিং এপ প্রি-রোমান্টিক পিরিয়ডের ফ্যামিলির ভূমিকা নিছে ওয়েস্টে। ডেটিং এপে প্রথমদিকে তারা দেখাইত ইউজারের চাহিদা অনুযায়ী ইউজার। কিন্তু দেখা গেল এতে রিলেশন ঠিকে না। পরে তারা নিজস্ব হিসাব মতে ইউজারের সামনে অন্য ইউজাররে তুইলা ধরতে থাকল। এতে রিলেশন ভালো ঠিকছে। এখানে এপের ভূমিকা ফ্যামিলির মতই, যে নিজের হিসাবে পাত্র বা পাত্রী ঠিক কইরা দেয়। তবে ফ্যামিলির মত দেয় না সরাসরি, এমনভাবে দেয় যে যাতে ইউজার মনে করেন তার স্বাধীনতা আছে। কয়েকটি অপশনের মধ্যে চয়েজ করার স্বাধীনতা অবশ্য থাকে তার। বর্তমান কালে স্বাধীনতার স্বরূপই এই।

ফলে আমার মত হইল ডেটিং এপ দ্বারা যে রিলেশন হবে, তা যদি বিয়া পর্যন্ত গড়ায়, তাইলে সেই বিয়া বেশি ঠিকবে, নন ডেটিং এপ লাভ ম্যারেজের চাইতে। কিন্তু এরেঞ্জড ম্যারেজের চাইতে তা আনহ্যাপি হইতে পারে বিভিন্ন অপশনের মধ্যে চয়েজ করার স্বাধীনতার কারণে। বিভিন্ন অপশনের মধ্য থেকে একটাকে চয়েজের স্বাধীনতা মানুষকে আনহ্যাপি করে।

Posted in তত্ত্ব | Leave a comment

জ্ঞাণ বিষয়ক

জ্ঞান অর্জনের পথে বাঁধা হচ্ছে ইগো। মূর্খদের এই ধরনের ইগো বেশি থাকে। ফলে তারা তাদের লালিত দৃষ্টভঙ্গীর বাইরের কিছু পড়তে বা ভিন্ন ধরনের চিন্তার সাথে পরিচিত হতে সন্ত্রস্ত বোধ করে। মূর্খরা তাদের এই ইগোর কারণেই তাদের চাইতে স্মার্ট লোকদের কাছ থেকে কিছু শিখতে চায় না। মূর্খরা সর্বদা এই ভয়ে থাকে, ‘কারো দ্বারা প্রভাবিত হইলাম নাকী’।

পক্ষান্তরে জ্ঞানীরা শিখতে চান। জ্ঞানীরা তাদের চাইতে স্মার্ট মানুষদের কাছ থেকে শিখতে কুন্ঠাবোধ করেন না। জ্ঞানী প্রভাবিত হইতেও ভয় পান না। কারণ তিনি জানেন তার নিজস্ব যা আছে তা প্রভাবের তোড়ে ভাইসা যাবার মত ঠুনকো নয়।

জ্ঞানীরা সংখ্যায় কম। তাদের খুঁইজা বাইর করতে হয় অনেক ক্ষেত্রে। আর মূর্খরা ফেনার মত, ভেসে থাকে।

 

জ্ঞাণ অর্জনের পথে দ্বিতীয় বাঁধা জনপ্রিয় হইবার বাসনা। কারণ জনপ্রিয় হইবার চিন্তায় তখন জ্ঞানের চিন্তা বাদ দিয়া “জন” এর মনতুষ্ঠির কাজ কইরা যাইতে হয়।

 

জ্ঞাণ অর্জনের পথে আরেক বাঁধা গ্রুপিং। গ্রুপে থাকলে মানুষেরা উগ্র মত ধারণ করে বেশি, নিজস্ব চিন্তার স্বল্পতার কারণে। এর নাম দেয়া হইছে গ্রুপ পোলারাইজেশন।

তবে ভালো জ্ঞাণীদের গ্রুপে যাইতে পারা জ্ঞাণ অর্জনের পক্ষে সহায়ক হইতে পারে কিন্তু তাদের গ্রুপে যাওয়া অসম্ভবের কাছাকাছি। কারণ এই ধরনের মানুষেরা গ্রুপ করতে পারেন খুব কম। পাভেল বাসিনস্কি মতে, তলস্তয় ওয়ার এন্ড পিসে এই কথাই বলেছেন। ভালো মানুষদের একত্রিত করা কঠিন, আর মন্দরা সহজেই একত্রিত হয়ে যায়।

আর জ্ঞাণ অর্জনের পথে চরমতম বাঁধা হচ্ছে তেলবাজি। তেলবাজি মূর্খদের প্রধান বৈশিষ্ট্য। যারা জনপ্রিয় হইতে চায় বা অন্য কোন সুবিধা নিতে চায় এরা তেলবাজি করে বেশি। অতীতে জ্ঞাতে বা অজ্ঞাতে যদি কখনো তেলবাজি করে থাকেন তাহলে তওবা অথবা গঙ্গাস্নান করে পবিত্র হতে হবে। অন্যথায় এই পাত্রে আর জ্ঞাণ জমা হবে না।

Posted in জ্ঞাণ | Leave a comment

মন মগজে উপনিবেশ

একবার একটা টিভি চ্যানেলে এক বিদেশী শাদা চামড়ার বেটির স্বাক্ষাতকার দেখাইল। তিনি বলতেছিলেন “আমি ফ্রান্সে ছিলাম, জার্মানিতে ছিলাম কিন্তু কোথাও দেখি নাই মিশাইয়া কথা বলে লোকে। ফ্রেঞ্চ কইলে ফ্রেঞ্চ কয়, জার্মান কইলে জার্মান। কিন্তু এখানে লোকে বাংলার লগে ইংরাজি মিশায়।”

এই কথা শোনার পর রিপোর্টার শরম পাইলেন। তিনি কথা বলতে গেলেন। তার মুখ থেকে দুটা ইংরাজ শব্দ বাইর হইয়া গেল। তিনি আরো শরম পাইলেন।

এইটা শেয়ার করছিল রেডিও মুন্না। ফলে শরম পাইতে থাকা মানুষের সংখ্যা খালি বাড়তে থাকল।

এই শরম পাওয়ারা বুঝে নাই বাংলা ভাষায় ইংরাজ পর্তুগিজ আরবি ফার্সি শব্দে ভর্তি। আরবি ফারসি বিদায় করে প্রমিত বাংলা বানানি হইছিল কিন্তু তাতেও রইয়া গেছে। ইংরাজরা দুইশ বছর এইখানে শাসক হিসাবে ছিল। ফলে ইংরাজি প্রবেশ করছে বেশি। মুসলিম শাসকদের থেকে ঢুকছে ফারসি আরবি।

বাংলা ভাষার ইতিহাস না জাইনা শরম পাইল এরা। এইভাবে শরম দেয় কলোনিয়াল মনোভাব যাদের এরা, আর শরম পায় উপনিবেশের দাস ছিল এবং মনে মননে এখনো ঐরূপ রইয়া গেছে যারা, তারা। এই ধরনের শরমের কেন্দ্রে দাঁড়াইয়া আছে ইউরোপিয়ান এনলাইটনমেন্ট – ‘আমি আলোর পথে আছি আর তোমরা হালায় চামার’।

Posted in কলোনিয়ালিজম | Leave a comment