বই কিনে লেখক বাঁচানি পাঠকের কাজ নয়

লেখকরে বাঁচাইতে বই কিনার দরকার নাই। এরকম একটা কথা দেখলাম জসীম উদ্দিনের যে, আপনারা বই কিনেন, তাইলে লেখকেরা পয়সা পাইবেন, স্বাবলম্বী হইবেন এবং আপনাদের হইয়া কথা কইবেন। এই ধরনের চিন্তা বাজে। লেখকরে পয়সা দিবার জন্য বই কিনবেন না। বই কিনবেন নিজের জন্য।

জসীম উদ্দিন যেই যুক্তিতে বই কিনতে বলছেন তা এক ধরনের দান চাওয়াই। যে আপনারা লেখকদের বাঁচান, লেখকেরা আপনাদের পিঠ বাঁচাবে। কিন্তু এর নিশ্চয়তা কি যে স্বাস্থ্যবান হইয়া লেখক পাঠককূলের পিঠ বাঁচাবে? বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এমন হয় যে সময়ের চাইতে আগাইয়া থাকেন বড় লেখকেরা, ফলে জনগণের মতের লগে তাদের মত মিলে না।

 

– “আপনারা বই কিনলে আরও কী হবে জানেন? দেশের লেখকরা বই বিক্রি থেকে পয়সা পাবেন। দেশে একদল স্বাধীন-মত লেখক তৈরি হবে। তখন তাঁরা যা ভাববেন তাই লিখতে পারবেন। দুর্বলের হয়ে, নিপীড়িতের হয়ে লড়াই করতে পারবেন। আপনাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার আদর্শবাদের তাঁরা রূপ দিতে পারবেন। দেশের অধিকাংশ লেখককে যদি জীবিকার জন্য সরকারের কোনো চাকরি করতে হয়, তবে সেই সরকার কোনো অবিচার করলেও সেই লেখক দাঁড়াতে পারেন না। লেখক স্বাবলম্বী হলে সে তো আপনারই লাভ। সরকারের সমালোচনা করে আপনাকে তবে জেলে যেতে হবে না। লেখকের বইগুলো সে কাজ করবে। রুশো, ভল্টেয়ারের লেখাগুলি তাঁদের দেশে মহাপরিবর্তন এনেছিল।”

—জসীম উদ্‌দীন

Posted in তর্ক বিতর্ক সমসাময়িক | Leave a comment

আরণ্যক – পাঠ

আরণ্যক – পাঠ-১

“যেখানে যে ফুল নেই, সেখানে সেই ফুল, গাছ, লতা নিয়ে পুঁতব, এই আমার শখ। সারাজীবন ঐ করেছি। এখন আমি ও-কাজে ঘুণ হয়ে গেছি।”

কথাটি বলেছে যুগলপ্রসাদ। বিভূতিভূষণের আরণ্যক উপন্যাসের এক চরিত্র। এখানে “ঘুণ” হয়ে যাওয়া শব্দটি খেয়াল করেন। ঘুণ মানে সাধারণত ঘুণপোকা, যার আরেক অর্থ সুদক্ষ, পরিপক্ক, অতি নিপুণ। ঘুণ পোকা এমনভাবে নিরলস কাঠ খাইতে থাকে যে তারা অতি নিপুণ হইয়া উঠে। ধারণা করি এই থেকে ঘুণ অর্থ হইছে সুদক্ষ। আরেকটা শব্দ ঘূণাক্ষরে যার অর্থ ঘুণদষ্ট বা ঘুনে খাওয়া কাঠের উপরে অক্ষরের মত চিহ্ন। এর আরেক অর্থ হইছে সামান্য ইঙ্গিত। যেমন, ঘূনাক্ষরেও টের পাইলাম না আপনে মানুষ।

Posted in সাহিত্য | Leave a comment

সততা ও ন্যায়পরায়ণতা

আইজাক আসিমভ তার এক লেখায় সততা আর ন্যায়পরায়ণতারে আলাদা করছিলেন। আমার ভালো লাগছিল। তিনি কইলেন, সততা যদি হয় সদা সৎ কথা বলা, সৎ পথে চলা, তাইলে ন্যায়পরায়ণতা হইল অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া। তা সততারও উপরের জিনিস। একজন সৎ লোক নির্বিবাদী হইয়া তার সামনে আরেকজনের উপরে হইতে থাকা অন্যায় মুখ বুইজা দেখতে পারে। কিন্তু ন্যায়পরায়ন লোক এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিবে।

ওয়ারেন বাফেটের একটা চিন্তা অসাধারণ। আপনি সৎ হইবেন কি না, ন্যায়পরায়ণ হইবেন কি না, তা স্কুল কলেজ বা ফ্যামিলি থেকে শিখবেন না। এইটা আপনার সিদ্ধান্ত। আপনি নিজেই সিদ্ধান্ত নিবেন আপনে সৎ, ন্যায়পরায়ণ হইবেন, না অসৎ হইবেন। এইটা আপনারই একান্ত চয়েজ।

 

Posted in মানবজাতি | Leave a comment

দলবাজি

মানুষের আদিম প্রবণতা হইল দল করা। দল না করলে তারা নিজেরে হুমকির মুখে মনে করে। সেই জঙ্গলে থাকা কাল থেকে এই প্রবণতা তার মধ্যে। কেউ কেউ লিবারেল দলে যায়, কেউ রক্ষণশীলতার দলে ভীড়ে।

তা না হইলে বিনোদনের কারণেও লোকে দল করে। যেমন, বার্সা, রিয়াল ইত্যাদি।

এটা মানুষের এক প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য। তাই বাঙালী খালি দলাদলি করে বলে যে অভিযোগ তা ঠিক নয়। সবাই দলাদলি করে, তার অবচেতন স্বস্থির কারণেই দলে দলে ভাগ হয়।

Posted in তত্ত্ব | Leave a comment

প্রেম চিন্তায় পার্থক্য বা গানভাবনা

আগর তুম মিল যাও, জমানা ছোড় দেংগে হাম, নামে একটা গান আছে না? ভাবতেছি এইটা কেমন গান। যারে চাইতেছ তারে পাইলে দুনিয়া ছাইড়া দিবা এটা কেমন কথা! এর চেয়ে বাস্তবসম্মত কথা আব্দুল করিম বলেছেন, রঙ্গের দুনিয়া তরে চাই না, দিবানিশি ভাবি যারে তারে যদি পাই না। প্রেম বিষয়ে আব্দুল করিম পন্থী চিন্তা এক্ষেত্রে ভালো।

Posted in প্রেম | Leave a comment