প্রকৃতিপ্রেম বিষয়ক

আমরা দেখি যে “প্রকৃতিপ্রেমিক” “সৌন্দর্যপিপাসু” “ভ্রমনপিপাসু” ইত্যাদি মানুষেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত জায়গাতে বেড়াতে যান। এইসব পিপাসার্তরা আসলে প্রকৃত প্রকৃতিপ্রেমিক নন। তাদের প্রকৃতিপ্রেম হচ্ছে বিনোদনের জন্য শহরের ব্যস্ততা, কোলাহল থেকে দূরে গিয়া প্রকৃতির সাথে একটু প্রেম ট্রেম করে আসা। এইসব প্রেম হচ্ছে দূরে দূরে থাকা প্রেম। মানব মানবীর ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রেমকে সমাজে বলা হয়ে থাকে লাম্পট্য। এইরকম অনেক পিপাসার্তরা দিনে বা রাইতে অবিদ্যাদের আবাসস্থলে যান, তাদের কেউ অবিদ্যাপ্রেমিক বলে না। লম্পট বা চরিত্রহীন ইত্যাদি বলে থাকে।

কিন্তু প্রকৃতিপ্রেমের ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রেমিকেরা “প্রকৃতিপ্রেমিক” তকমা পেয়ে যান। কারণ তারাই সংখ্যাগরিষ্ট। তাই নিজেদের নাম দেয়া বা না দেয়া তাদেরই নিয়ন্ত্রণে। অথবা অনেকে নিজেরেই প্রকৃতিপ্রেমিক বলে ভুল বুঝে। যেহেতু নিজে নিজেরে ভুল বুঝাটাই সবচেয়ে ইজি এবং মারাত্মকও।

এইসব পিপাসু ও তথাকথিত প্রেমিকেরা খবর পান অমুক জায়গায় প্রকৃতি সৌন্দর্যে ভরপুর। তারা সেইখানে দলে দলে যান। সেখানে বসবাসকারী পাখিরা, প্রাণীরা এবং মানুষেরা এনাদের হঠাৎ আগমনে প্রথমে অবাক হয়। অতঃপর হয় সন্ত্রস্ত।

পত্রিকা বা বিভিন্ন মিডিয়ায় উক্ত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যযুক্ত জায়গার খবর প্রকাশ হইতে থাকে। বিচিত্র ধরনের প্রেমিকদের আগমনে ঐ জায়গার অবস্থা হইতে থাকে কাহিল। ওখানকার পাখিরা ভয়ে জায়গা ছাড়ে, প্রাণীরা পালায়। জীববৈচিত্র নষ্ট নয়। সাধু এবং অসাধু নানাবিদ ব্যবসা হয়। অর্থের প্রবাহ বাড়ে যৎকিঞ্চিত। কিন্তু যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নিরবে নিভৃতে অপার মাধুর্য লইয়া বসেছিল ধরনীতলে, তার বিনাশ ঘটে। পরোক্ষভাবে তথাকথিত প্রেমিকেরা তারে খাইয়া ফেলেন।

এই প্রেমিকেরা আসলে পকারান্তে প্রকৃতিখাদক। “পিপাসু” শব্দটার মাঝেই রয়েছে এর লুকানো অর্থ। পিপাসু মানে পিপাসায় কাতর এমন, তিনি পাইলেই পান করবেন। তার পিপাসা নিবারন করবেন। এর ফলে কার ক্ষতি, কার লাভ সে হিশাব তার পরে। প্রকৃতির সৌন্দর্য এরা খান, পান করেন। এদের প্রকৃতি প্রেমিকা যারা আছেন বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, তারা হয়ত আমার লেখা পড়তে পারবেন না। যেহেতু বর্নমালা তারা জানেন না। তবুও তাদের উপদেশ দেই, আপনাদের তথাকথিত প্রেমিকদের হাত থেকে বাঁচতে ঘোমটা দিয়া থাকেন। লতাপাতা, সাপে, জোঁকে জড়াজড়ি কইরা থাকেন। অন্যথায় বুর্জোয়া প্রেমিকেরা আপনাদের খাইয়া ফেলবেন প্রেমের নাম করে।

২৩ অক্টোবর, ২০১৬

This entry was posted in তর্ক বিতর্ক সমসাময়িক. Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


*